Showing posts with label update news bd. Show all posts
Showing posts with label update news bd. Show all posts

0 একুশ তুমি (২১ শে ফেব্রয়ারী)

একুশ তুমি মহান

একুশ তুমি রক্তে শ্বশান ।

একুশ তুমি এসেছিলে

চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে,

অনেক মায়ের আচল ছিড়ে

বেরিয়ে এসেছিলে রাজপথে ।

একুশ তুমি জানতে হয়তো

তুমি হবে সফল,

তাইতো তুমি বিলিয়ে ছিলে

অনেক মায়ের আশার আছল।

ভাষাই ছিল তোমার আশা

বাঙালীর প্রতি চিল ভরসা,

সার্থক মোরে করবে এরা

বিনিময়ে পাবে মাতৃভাষা ।

স্বীকৃতি তুমি পেলে শেষে

আর্ন্তজাতিক ভাষা হিসেবে,

গর্বিত হল সকল জাতি

ঋনী মোরা সালাম,বরকত তোমাদের প্রতি ।

একুম তুমি কি

যায়না সহজে বোঝা,

তুমি যে মোদের গর্বিত প্রতীক

তোমার জন্য কোটি শহীদ মিনার খাড়া ।

একুশ তুমি অনুপ্রেরনা

তোমার কারনে স্বাধীন আমরা

একুশ তুমি মহান জাতির সৃষ্টিকারী

তোমার কাছে ঋনী আমি ।।

বি:দ্র: কবিতাটি আমার লেখা ১০ ফেব্রয়ারী-২০০৭ সালে।যখন আমি এইচ,এস,সি ১ম বর্ষে শিক্ষার্থী । জানি না আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে , তবে আমি আশাবাদী আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের প্রচেষ্টা হয়তো একটু ভাল লাগলে ও লাগতে পারে আপনার কাছে।

0 রাজাকারের উকিল নোটিস

0 সরেজমিনহামলাকারীদের অতীত কীর্তি

বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত শাকিলের বাবা আনছার আলী লজ্জায়, গ্লানিতে মুখ দেখাতে পারছেন না। এখন ছেলের শাস্তি হলেই শান্তি পাবেন বাবা আনছার আলী। একইভাবে সন্তানের শাস্তি চান ইমদাদের মা জোহরা বেগম। 'ইমদাদ যে মায়ের বুক খালি কইরেছে, তার জন্যি কষ্ট হচ্ছে,' কালের কণ্ঠকে বলেন জোহরা। মাদ্রাসাশিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য ছেলে মাহফুজুর রহমান নাহিদকে পাঠিয়েছিলেন ঢাকায়। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে ছেলের অংশ নেওয়ার খবরে রীতিমতো শয্যাশায়ী নাহিদের বাবা। এদিকে অভিযুক্ত ইমদাদুল হকের স্বভাব-চরিত্র যে আগে থেকেই ভালো ছিল না, কলেজজীবনে লজিং থাকার সময়ই সে গৃহকর্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছিল, তা জানা যায় তার স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর গ্রামের বাড়ি গিয়ে এসব তথ্য তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সেসব তথ্য জানিয়েছেন কালের কণ্ঠের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
শাকিল : 'ওই রাতে ওর হাতে অস্ত্র, মাদক আর বেপরোয়া চলাফেরা দেখে আমি ভীষণ ভয় পেয়ে যাই। পরে আর যোগাযোগই রাখিনি', বলছিলেন অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শাকিলের ছোটবেলার বন্ধু মনিরুল ইসলাম মনির। তিনি জানান, শাকিলের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই তাঁর যোগাযোগ হতো। ২০১০ সালের মাঝামাঝি ঢাকায় এক রাতে তিনি শাকিলের সঙ্গে ছিলেন। ওই রাতে শাকিল ৮-১০ জন বন্ধু নিয়ে মাদক সেবন করে। বন্ধুদের সবাই ছিল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এবং তাদের মধ্যে ছয়জন ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তবে চাপাচাপির পরও মনির কোনো মাদক সেবন করেননি। মনির জানান, শাকিল পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পাসের পর চলে যায় ঢাকা। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে ভর্তি হয়।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস রোড এলাকায় শাকিলদের বাড়ি। বাবা আনছার আলী এমএলএসএস পদে কর্মরত ছিলেন পটুয়াখালী আয়কর অফিসে। ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাখেরগঞ্জ উপজেলার মহেশপুরা গ্রামে। তাঁর দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী শাহিদা বেগমকে নিয়ে পটুয়াখালী থাকেন। শাকিলের বড় ভাই শাহিন পটুয়াখালী পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিলের বাবা আনছার আলী বলেন, 'আমি ওকে (শাকিল) লেখাপড়া করার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি, সন্ত্রাসী বা মাস্তানি করতে না। ওর কর্মকাণ্ড টেলিভিশনের পর্দায় দেখে সমাজে এখন আর মুখ দেখাতে পারছি না। আমি চাই ওর উপযুক্ত শাস্তি হোক। এ সন্তান থাকার চেয়ে না থাকা অনেক ভালো।'
মাহফুজুর রহমান নাহিদ : বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামে। বাবা মাওলানা আবদুর রহমান স্থানীয় দক্ষিণ জয়নগর হোছাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মাহফুজ ২০০১ সালে দাখিল এবং ২০০৩ সালে আলিম পাস করার পর ঢাকায় চলে যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে অনার্স শেষে বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। গত জুলাই মাসে বরিশালে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে পরীক্ষা দেয় মাহফুজ।
গ্রামের বিভিন্ন সূত্রমতে, আলিমে পড়া অবস্থায়ই সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় মাহফুজ। কিন্তু বাবা ও বড় ভাইয়ের কঠোর অবস্থানের কারণে সক্রিয় রাজনীতি করা হয়নি তার। ঢাকায় যাওয়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় সে।
মাহফুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তার বৃদ্ধ বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা আবদুর রহমান এ ঘটনা শোনার পর থেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। স্বজন-প্রতিবেশী কারো সঙ্গেই কথা বলছেন না। একই অবস্থা মাহফুজের মা সামসুন নাহারের।
স্বজনরা বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসাশিক্ষক বাবা তাঁর ছেলেকে মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক বানাতে উচ্চশিক্ষার জন্য রাজধানী ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। আর সেই ছেলে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করছে- এমন দৃশ্য দেখার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা মাওলানা আবদুর রহমান। মা সামসুন নাহার ছেলের জন্য বিলাপ করতে করতে এখন নির্বাক। এ ঘটনায় হতবাক মাহফুজের সহপাঠী, প্রতিবেশী, স্বজন সবাই।
বড় ভাই মাকসুদুর রহমান জানান, মাহফুজের এই কর্মকাণ্ড দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তাঁদের পরিবার। ছেলের (মাহফুজের) এমন কাজে স্থবির হয়ে গেছে পুরো পরিবার। কী কারণে মাহফুজ এমন নৃশংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হলো, তা জানা নেই পরিবারের কারোই।
ইমদাদুল হক : যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচকায়বা গ্রামের গরিব কৃষক আকরাম আলীর সাত ছেলেমেয়ের মধ্যে ষষ্ঠ ইমদাদুল। মাঝবয়সী মা জোহরা বেগম সন্তানের নৃশংসতার কথা প্রতিবেশীর কাছে শুনেছেন। গতকাল যশোর শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে ইমদাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা জোহরা মলিন একটি শাড়ি পরে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, 'ইমদাদ যে মায়ের বুক খালি কইরেছে, তার জন্যি কষ্ট হচ্ছে। কোন শয়তান ওর ওপর ভর করিছিল, তা আল্লায় জানে। ছাওয়ালডা ঢাকায় যাইয়ে সঙ্গদোষে খারাপ হইয়েছে।' জোহরা আরো বলেন, 'তোমরা যা ভালো মনে করো, তাই করো। ছেলের শাস্তি দিলে দাও।'
ইমদাদের বাবা তিন বছর আগে মারা গেছেন। ইমদাদের ভাই জাকির জানান, 'সে ঢাকায় ছাত্রলীগ করত এবং কোনো একটি হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল বলে আমাদের বলেছে।'
ইমদাদের ভগ্নিপতি নরিম আলী বলেন, কলারোয়া উপজেলার কাজীরহাট কলেজে লেখাপড়া করার সময় এলাকার এক গ্রামে লজিং থাকত ইমদাদ। সে একদিন গৃহকর্তার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সালিসে মীমাংসা হয়।
বাইকোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, 'ইমদাদ আমাদের স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছে। ও নম্র-ভদ্র ছিল। কোনো অভিযোগ শুনিনি তারা বিরুদ্ধে।' এলাকার ইউপি সদস্য নিজামুদ্দিন বলেন, 'ইমদাদ বাড়িতে খুব কম আসত। গ্রামে তার নামে কোনো অভিযোগ শুনিনি।' শার্শা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সোমেন কুমার বিশ্বাস বলেন, 'ইমদাদকে ধরার জন্য তার গ্রামের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার নামে থানায় কোনো অভিযোগ আছে কি না, তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।'
ওবায়দুল কাদের তাহসীন : বাড়ি নোয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার পৌর এলাকার চরকৈলাশ গ্রামে। পরিবার জামায়াত-শিবিরের সমর্থক। বাবা মাওলানা মো. মহিউদ্দিন স্থানীয় আজহার উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি একসময় ছাত্রশিবির হাতিয়া উপজেলার সভাপতি ছিলেন। তাঁর দাদা মরহুম মাওলানা রুহুল আমিন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ছিলেন। তাহসীনের বড় ভাই সাব্বির আহাম্মেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সে ফারুক হত্যা মামলার ২ নাম্বার আসামি।
ছোট ভাই মঞ্জুরুল কাদের আজহার উলুম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী। দুই বোনের মধ্যে বড় বোন তাহমিনা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সম্মানের ছাত্রী। ছোট বোন তাহমিদা আক্তার (১০) মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে।
গতকাল তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা ফরিদা খানম, ছোট ভাই মঞ্জুর কাদের ও ছোট বোন তাহমিদা বাড়িতে রয়েছে। মঞ্জুর জানায়, তার বড় ভাই সাব্বির শিবিরের সঙ্গে জড়িত, এটা সে জানে। মেজ ভাই তাহসীন জগন্নাথে কোনো দল করে কি না, তা সে জানে না। তাহসিন ২০০৩ সালে হাতিয়ার এএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর ঢাকার কুর্মিটোলা শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। এরপর ভর্তি হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, তাহসীন স্কুলজীবনে এখানে পড়ালেখা করলেও ছাত্রলীগের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। হাতিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. ইদ্রিস জানান, তাহসীনের বাবা মাওলানা মহিউদ্দিন তাঁদের দলের কোনো সক্রিয় কর্মী নন, সমর্থক। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তার আহাম্মেদ জানান, তাহসীনের পুরো পরিবারই জামায়াত শিবির করত। তার বড় ভাই সাব্বির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের নেতা এবং ফারুক হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর তাহসীনের বাবাকে দেখা যাচ্ছে না।
নূরে আলম লিমন : রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পূর্ব শুলি্লপাড়া গ্রামে বাড়ি। বাবা মীর মো. নূরুল ইসলাম ১২-১৩ বছর আগে জমিজমা বিক্রি করে স্ত্রী নুর বানু ও ছেলে লিমনকে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। এর পর থেকে দরিদ্র এ পরিবারটির গ্রামের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই। গ্রামের বাসিন্দা সফর আলী বলেন, 'ঢাকায় যাওয়ার পর নূরুল ইসলামের ছেলে এমন হয়েছে, সেটা জানা ছিল না। এ ঘটনায় তার শাস্তি হওয়া উচিত।' লিমনের চাচাতো ভাই আফছার আলী মীর জানান, গ্রামে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে ঢাকায় যাওয়ার পর এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় লিমন।

0 ছাত্রলীগের ৯ নেতার প্রশ্রয়ে ওরা বেপরোয়া

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৩৫ জনের একটি 'ক্রেজি টিম' আছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যারা জড়িত তারা এই দলেরই সদস্য। ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন সূত্র মতে, এই দলের অন্তত ১৯ জন বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জড়িত। বর্তমান ও সাবেক ৯ নেতার মদদে এই ক্রেজি টিম পুরান ঢাকায় এখন বেপরোয়া।
এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করার কথা স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, তাঁরা অন্তত ১১ জনকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে শনাক্ত হওয়া ১৪ জন গোয়েন্দা নজরদারিতে আছে। যেকোনো মূহূর্তে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে ১১ জনের তালিকা তৈরি করেছে।
৯ নেতার মদদে 'ক্রেজি' : অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক ও বর্তমান ৯ জন নেতার মদদেই জগন্নাথের ছাত্রলীগকর্মীদের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবরোধের দিন যারা হামলা চালিয়েছে, তারা এসব নেতার অনুসারী। বিভিন্ন অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেও এসব ছাত্রলীগ ক্যাডারকে নিয়ে গ্রুপিং করছেন ওই সব ছাত্রলীগ নেতা। নেতাদের হাত ধরে রাজনীতিতে পা দিয়ে তারা এখন পদ লাভের চেষ্টা করছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের জগন্নাথ শাখার সাবেক সভাপতি কামারুল হাসান রিপনের গ্রুপে রাজনীতি করে জহির উদ্দিন বাবর। বাবরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ছাত্রী লাঞ্ছনা, সাধারণ ছাত্রদের মারধর, ছাত্রদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়, মোবাইল ফোন ছিনতাই, মাদক ও ইয়াবা সেবন এবং পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। বাবর বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির উপনাট্য ও বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক। বর্তমান কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলামের গ্রুপের সজীব, কালা সুমন, ইমদাদসহ কয়েকজন এবং সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া, শাকিল, সঞ্জীব, তাহসিনসহ কয়েকজন বাবরের নেতৃত্বেই চলে।
সূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের মদদে আছে মিলন, জাহিদুল্লাহ মামুন ও আলামিন। সভাপতির গ্রুপে আছে মোশারফ, আজিজুল, সোহেল, সরলসহ কয়েকজন। কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক সাফায়াত উল্লাহ সাফায়েত নিয়ন্ত্রণ করেন রনি ও পিরোজপুরের প্রিন্সসহ কয়েকজনকে। সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আখন্দ গ্রুপে আছে রাজন, আগুনসহ কয়েকজন। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আরিফুল ইসলামের গ্রুপে আছে রফিকুল, আলাউদ্দিন, তরিকুলসহ কয়েকজন। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিনের গ্রুপে আছে নাহিদ, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রিন্সসহ কয়েকজন। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শ্রাবণের গ্রুপে সাইফুল, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও বিনয়সহ কয়েকজন। সূত্রে জানা যায়, কিবরিয়া কেন্দ্রীয় এক নেতার মদদপুষ্ট। সরকারের ঊর্ধ্বতন একটি মহলের ইন্ধনে চলছে মাগুরার ছেলে ইউনুস। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের এক তরুণ সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে চলে অভিযুক্ত নাহিদ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আরিফুল ইসলাম অভিযুক্তদের মদদ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন 'আমি দীর্ঘদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি। আমি থাকা অবস্থায় এ ছেলেদের কয়েকবার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। সে সময় তারা দলে সক্রিয় হতে পারেনি।'
সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, 'আমরা এদের সুযোগ দিইনি। কিন্তু এখন কমিটিতে ঢোকার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। কেউ কেউ আবার তাদের মদদ দিচ্ছেন বলেও শুনতে পাই।'
পদ পেতেই বেপরোয়া : ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী জানিয়েছে, জগন্নাথে সভাপতি ও সম্পাদকের কমিটি থাকলেও বিভিন্ন পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় এবং সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ রাখে। এ যোগাযোগের কারণে বহিষ্কৃত হয়েও দলে সক্রিয় রয়েছে তারা। একের পর এক অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছে তারা।
আরো জানা গেছে, আগামী ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েকজনের সিভি (জীবনবৃত্তান্ত) গ্রহণ করা হয়েছে। এসব সিভি কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের কাছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। কর্মীরা জানায়, নতুন কমিটিতে সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর, প্রচার, অর্থসহ বিভিন্ন সম্পাদক পদ পাওয়ার জন্য অভিযুক্ত কয়েকজন জোর লবিং চালাচ্ছিল। তাই তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বেশি ভূমিকা দেখাতে চাইছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা সবাই পদপ্রত্যাশী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম শাকিলের বড় ভাই শাহিন হাওলাদার তৎকালীন পটুয়াখালী পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে শাহিন হাওলাদার পটুয়াখালী পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। এসব প্রকাশের পরও ছাত্রলীগ নেতা বাবর শাকিলকে মদদ দেন। রক্ষা করেন বিভিন্ন অভিযোগ থেকে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ভোলার ছেলে মাহফুজুর রহমান নাহিদ ২০১১ সালের আহ্বায়ক কমিটিতে বরিশাল গ্রুপ হিসেবে খ্যাত যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিনের গ্রুপে যোগ দেয়। এরপর বেশ কয়েকটি অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে নাহিদ আলোচনায় উঠে এলেও নিজাম তাকে রক্ষা করেন। তিনি বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহসভাপতি পদপ্রার্থী।
বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর এখন প্রকাশ পেয়েছে, নাহিদ ছাত্রলীগ করার আগে শিবিরের রাজনীতি করত। আবদুল কাদের তাহসিন ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির পর সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের সঙ্গে যোগ দেয়। রিপনের ক্যাডার জহির উদ্দিন বাবরের সঙ্গে কাজ করত সে। তাহসিনের বড় ভাই তাফসীরুল কাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের একটি হলের সভাপতি ছিলেন। ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের গ্রুপে যোগ দেয় এবং ছাত্রলীগের ক্যাডার বাবরের সঙ্গে মিলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। বর্তমান কমিটির সভাপতি শরিফুল গ্রুপের রাজনীতি করে ইমদাদ। মীর নুরে আলম লিমন কামরুল হাসান রিপনের অনুসারী ও বাবরের সহকারী। চলতি বছরের ৩ অক্টোবর ছাত্রলীগ নতুন কমিটি দিলে সভাপতি শরিফুল ইসলামের গ্রুপে যোগ দেয়। সে নতুন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ছিল। রাশেদুজ্জামান শাওন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শ্রাবণের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
ক্রেজি টিমে যারা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাধিক সক্রিয় কর্মী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানায়, বিভিন্ন গ্রুপের কিছু বেপরোয়া কর্মী বিরোধী দলের কর্মসূচির সময় মিছিল-মিটিংয়ের সামনের দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। তারাই বেপরোয়া হামলা চালায়। কয়েকজনের কাছে থাকে চাপাতি, ছুরিসহ ধারালো অস্ত্র। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় সাধারণ কর্মীরা এদের 'ক্রেজি' বলে অভিহিত করে। এই ক্রেজি ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে আছে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ, রাজন তালুকদার, মীর নুরে আলম লিমন, আবদুল কাদের তাহসিন, রফিকুল ইসলাম শাকিল, আজিজুল হক, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, ইউনুছ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, এইচ এম কিবরিয়া, প্রাণিবিদ্যার ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সজীব ও সোহেল, সরল, আল আমিন উজ্জল, ছাহিদুল হক মানিক, রনি, আলাউদ্দিন, শিপলু ওরফে শেপু, শান্ত, শহিদুল, তরিকুল, রফিকুল, সাইফুল, সঞ্জীব বসাক, জাহিদুল্লাহ মামুন, জনি, আবু তাহের, সেলিম, টিপু, জাহিদ, রুদ্র, মোশারফ, সৌরভ ও নূরুদ্দিন সুমন ওরফে কালা সুমন।
জানা গেছে, ক্রেজি টিমের ৩৫ জনের মধ্যে ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন সূত্রের সহায়তায় বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জড়িত অন্তত ১৯ জনকে শনাক্ত করা গেছে। তারা হলো মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ, রাজন তালুকদার, মীর নুরে আলম লিমন, আবদুল কাদের তাহসিন, রফিকুল ইসলাম শাকিল, আজিজুল হক, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, ইউনুছ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, এইচ এম কিবরিয়া, প্রাণিবিদ্যার ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সজীব ও সোহেল, শিপলু, আল আমিন উজ্জল, আলাউদ্দিন, সাইফুল, হিসাববিজ্ঞানের মোশারফ ও কালা সুমন। গ্রুপের রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাজন তালুকদার ও লিমন সব সময় সঙ্গে চাপাতি বহন করে। ঘটনার দিন ভিক্টোরিয়া ডেন্টাল ক্লিনিকের দোতলায় রাজনই প্রথম বিশ্বজিৎকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে শাকিল, নাহিদ, ইউনুস, তাহসিনসহ অন্যরা হামলা চালায়।
আরো জানা গেছে, সেদিন ক্রেজি গ্রুপের কিছু সদস্য নিচে অপেক্ষা করছিল। বিশ্বজিৎ জীবন বাঁচাতে ভবন থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা হামলা চালায়। আরো জানা গেছে, মিছিল থেকে কবি নজরুল সরকারি কলেজের কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী বিশ্বজিতের ওপর হামলায় অংশ নেয়। তবে ছবি স্পষ্ট না থাকায় তাদেরকে কেউই শনাক্ত করতে পারছে না। তবে জানা গেছে, ওই হামলার মিছিলে কবি নজরুল কলেজের কালা পারভেজ, হোসেন ও সায়মন উপস্থিত ছিল।
গোয়েন্দা তালিকায় ১১ জন : সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে ১০ জনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলো রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, নুরে আলম লিমন, আবদুল কাদের তাহসিন, সাইফুল ইসলাম, রাজন তালুকদার, আজিজুল হক, আল আমিন, রাশেদুজ্জামান শাওন, ইউনুস আলী ও শিপলু।
ছাত্রলীগের বক্তব্য : অভিযোগ ও সার্বিক ঘটনা প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ছাত্রলীগের বহিরাগত সাবেক নেতাদের মদদে কিছু বহিষ্কৃত কর্মী হত্যা করেছে বিশ্বজিৎকে। আমি এ ঘটনা কিছুই জানতাম না। জন্মদিনের অনুষ্ঠানের সময়ও আমি কিছু শুনিনি।' শরিফুল স্বীকার করেন, ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে কয়েকজন বেপরোয়া হয়ে হামলা চালায়। তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না দাবি করে তিনি বলেন, তারা ছাত্রলীগের কোনো পদে নেই। তবে ভবিষ্যতে যেন তারা পদে না আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এ ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি হয়নি।

0 আবুলের কারণে ফের ডুবল পদ্মা সেতু : অসন্তোষ নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের ঢাকা ত্যাগ

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের কারণে পদ্মা সেতু আর হচ্ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আবুল হোসেনকে বাদ দিয়ে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিলেও বিশ্বব্যাংক তাতে সম্মত হয়নি। গতকাল দুদক ও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের আলোচনা কার্যত ভেঙে গেছে। দ্বিতীয় সফরের তৃতীয় দফা আলোচনা শেষে দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো বলেন, ‘আর কিছু বলার নেই। আমরা বিমানবন্দরে যাচ্ছি।’ এর পরই রাতে তারা ঢাকা ত্যাগ করেন। প্যানেলের সদস্যরা দুদক কার্যালয় ছাড়ার পর কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেটা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। এতে কিছুদিন সময় লাগলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।’
মঙ্গলবার ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশসহ অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গতকাল চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিল কমিশন। বিশ্বব্যাংকের প্যানেলের তিন সদস্য দুদকের সঙ্গে গতকাল দু’দফা বৈঠক করেন। প্যানেলের সদস্যরা কমিশনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতায় আসতে না পেরে তারা বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ চান। অর্থমন্ত্রীর হেয়ার রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত হয় জরুরি বৈঠক। ওই বৈঠকে সৈয়দ আবুল হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর বাসায় ওই জরুরি বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খোলেননি কেউ। বৈঠক উপস্থিত থাকা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কথা বলবেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ‘নো কমেন্ট’ বলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফা বৈঠকের পরও মামলায় আসামির প্রশ্নে দুদকের দেয়া আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি প্যানেল। মূলত দ্বিতীয় দফা সফরের তৃতীয় বৈঠকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় নিক্সন চৌধুরীকে আসামি করা-না করা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। গতকাল বিকালের বৈঠকেই বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল একজন কমিশনারের আচরণকে চরম অসহযোগিতা ও অসৌজন্যমূলক বলে মন্তব্য করেন।
বিকালের বৈঠকে দুদক আইন ও বাংলাদেশের আইন সম্পর্কে প্যানেলকে জ্ঞান দিতে চাইলে কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন দলের প্রধান ম্যারিনো ওকাম্পো। এ সময় প্যানেলের অপর দুই সদস্য টিমথি টং ও রিচার্ড ওন্ডারম্যান উভয়ই বাংলাদেশী আইন সম্পর্কে উল্টো দুদক কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেন যে, এ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব। এছাড়া এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তা ও কানাডিয়ান তিন নাগরিককে আসামি করা নিয়েও প্যানেল ও কমিশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। প্যানেলের বক্তব্য ছিল, তাদের আসামি করা হলে বাংলাদেশের আদালতে তাদের বিচারের নিশ্চয়তা কীভাবে হবে; এতে মামলার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া প্রথম বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনও অনেক বিষয় অমীমাংসিত। কিছু বিষয়ে আলোচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছি। আমাদের আভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বৈঠক শেষে আমরা আবার দুদকে আসব। ওই সময় আমরা বিস্তারিত কথা বলব।’
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্বব্যাংকের প্যানেল সদস্যরা ফের দুদকে যান। কিন্তু ওই বৈঠক ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্য রক্ষায়। তারা কমিশনের সঙ্গে দেখা করে ১৫ মিনিটের মধ্যেই বিদায় নেন। অর্থমন্ত্রীর বাসায় বৈঠক সমাপ্ত হওয়ার আগেই বের হয়ে যান অ্যালেন গোল্ডস্টেইন। সন্ধ্যায় তার ফের দুদকে যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে যাননি।
আগেই দুদক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পাওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আসামির নামের তালিকা থেকে সৈয়দ আবুল হোসেন, আবুল হাসান ও নিক্সন চৌধুরীর নাম বাদ দিয়ে ৭ জনকে আসামি করে এজাহার তৈরি করে দুদক। এ এজাহার গতকালই থানায় দায়েরের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু প্যানেলের আপত্তিতে এ উদ্যোগ ভেস্তে গেছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কমিশন কার্যালয় ত্যাগ করেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, কমিশনার শাহাবুদ্দীন চুপ্পু ও দুদকের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। সাংবাদিকরা তাদের ঘিরে ধরলে কথা বলেন গোলাম রহমান। তিনি বলেন, কমিশনের অনুসন্ধান দল প্রতিবেদনটি ফের পর্যালোচনা করবে। তারা আমাদের কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের অবহিত করেছে। পরস্পরের মধ্যে মতামতের আদান-প্রদান হয়েছে। এসব মতামতের আইনি ব্যাখ্যা জানার জন্য আমাদের তদন্ত দল ফের নিরীক্ষা করবেন। তারপর আমরা আইনি মতামত, প্রতিবেদন বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আইনি ব্যবস্থা নেব।’ কমিশনের সঙ্গে প্যানেলের যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো খুবই গোপনীয়। আমাদের প্রতিবেদনে যেসব তথ্য এসেছে, তা সম্পূর্ণভাবে আমাদের আইনের আলোকে হয়েছে। এখানে মতপার্থক্য থাকলেও মতবিরোধ হয়নি।
দু-একদিনের মধ্যেই আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল কমিশন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিশন বলেন, প্রতিবেদনটি পুনঃপর্যালোচনা করে কমিশন আইনি ব্যবস্থা নেবে। তাতে যদি কয়েক দিন সময় লাগে, তাতে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মামলার সুপারিশ করা আসামির সংখ্যা ১০-এর কম উল্লেখ করে গোলাম রহমান বলেন, পর্যালোচনা শেষে সেটা বলা হবে না। আমরা পুরো বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করব। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশে আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী। সেখানে বিশ্বব্যাংক কী বলল, প্যানেল কী বলল, এতে দুদকের কিছু আসে যায় না।
অনুসন্ধান টিম দীর্ঘ এক বছরের অনুসন্ধানে কমপক্ষে ৩১ ব্যক্তিকে দুই থেকে তিন দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। সর্বশেষ তারা মঙ্গলবার ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলার সুপারিশ করে। তারা হলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় নিক্সন চৌধুরী, টেন্ডার কমিটির সদস্য সচিব ও সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী ফেরদৌস, টেন্ডার কমিটির সদস্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় এজেন্ট জিয়াউল হক, এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, এসএসনি-লাভালিনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক রমেশ সাহা ও একই বিভাগের সাবেক পরিচালক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসমাইল, এসএনসি-লাভালিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রধান গোলাম মোস্তফার নামে মামলার সুপারিশ করে।
মঙ্গলবার প্রতিবেদন দাখিলের পর গত দু’দিনে দফায় দফায় কমিশনের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারের নানামুখী চাপে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ও নিক্সন চৌধুরীর নাম বাদ দিয়ে ওই প্রতিবেদনটি কাটছাঁট করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান টিম ও কমিশনের সঙ্গেও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করার পক্ষে মত দেন। কিন্তু অপর কমিশনার শাহাবুদ্দীন চুপ্পু তাতে ভেটো দেন।
সূত্র জানায়, দুদকের তদন্ত দলের প্রতিবেদনে যেসব ধারায় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রমূলক অপরাধের জন্য বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২০(খ), দুর্নীতির উদ্যোগ গ্রহণের জন্য দণ্ডবিধির ৫১১ ধারা, ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও পরস্পর যোগসাজশে অপরাধটি সংগঠনের জন্য দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা।
প্রতিবেদনে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্পর্কে বলা হয়েছে, এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ সাহার ডায়েরিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষের বিষয়ে তার নাম রয়েছে। এছাড়া তিনি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায় এড়াতে পারেন না। কয়েকজন তার বিষয়ে পরোক্ষ সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আবুল হাসান চৌধুরীর বিষয়ে বলা হয়, তিনি সেতু ভবনে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তিনি এসএনসি-লাভালিনের দুই কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে তদবিরকারী হিসেবে সৈয়দ আবুল হোসেনের কাছে নিয়ে গেছেন। রমেশ সাহার ডায়েরিতে ১০ পার্সেন্ট ঘুষ দাবির সঙ্গে তার নামটিও জড়িয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয় সংসদের হুইপ নূরে আলম চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে বলা হয়, তিনি সরকারি কাজে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি নন। অথচ তিনি লাভালিনের পক্ষে দেনদরবার করতে সেতু ভবনে যাতায়াত করতেন। রমেশ সাহার ডায়েরিতে তার নামও রয়েছে। এছাড়া তিনি লাভালিনের কর্মকর্তা ইসমাইলের কাছ থেকে একটি কানাডিয়ান ভিসা নিয়েছেন। সম্প্রতি পদ্মা কেলেঙ্কারির কারণে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, আইনানুগভাবে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি চার চারবার ভাঙা-গড়ার দায়দায়িত্ব তার। তিনি সেতুর পরামর্শক সংস্থার কাজ যাতে এসএনসি-লাভালিন পায়, সেটার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছেন। সেতু প্রকল্পের সাবেক সচিব রফিকুল ইসলামসহ অন্তত চারজন সাক্ষী তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে বলেছেন, কানাডিয়ান কারিগরি প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিন পদ্মা সেতুর পরামর্শকের কাজ পাওয়ার জন্য উপযুক্ত ছিল না। অথচ তাদের কাজ দিতেই চারবার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ভাঙা হয়েছে।
সেতুর টেন্ডার মূল্যায়ন সংক্রান্ত কমিটির সদস্য সচিব কাজী ফেরদৌস সম্পর্কে বলা হয়, তিনি কমিটির সব তত্পরতার খবর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গোপনে জানিয়ে দিতেন। এসএনসি-লাভালিনকে কার্যাদেশ দিতে তত্পরতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি চার নম্বর কমিটির প্রধান জামিলুর রেজা চৌধুরীকেও প্রথম বিবেচিত হওয়া হলক্রো নামের প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে তার কমিটিকে বিভ্রান্ত করেছেন।
টেন্ডার কমিটির সদস্য ও সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ জাবেরের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশে বলা হয়, তিনিও লাভালিনের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করেছেন। দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের পেছনে তারও ইন্ধন ছিল। এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মোস্তফাকে আসামি করার বিষয়ে বলা হয়, লাভালিনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এলে তিনি মন্ত্রী-সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখা করানোর কাজটি করেন। লাভালিন অযোগ্য প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এ প্রতিষ্ঠান যাতে কাজ পায়, সেজন্য দেনদরবার করেছেন।
লাভালিনের তিন কর্মকর্তার বিষয়ে বলা হয়েছে, তারা এদেশে এসে মন্ত্রী-সচিবসহ সরকারি-বেসরকারি প্রভাবশালী গ্রুপটির সঙ্গে একান্তে দেখা করেছেন। তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে নিজেদের পক্ষে কাজ নেয়ার চেষ্টা করেছেন। রমেশের ডায়েরিতে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ ৬ জনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। বিচার শুরু হলে কানাডিয়ান আদালতের রায়টি সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ অন্তত ৪০ জনকে মামলার সাক্ষী করার বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্তকালে রফিকুল ইসলামের বিষয়ে যদি অধিকতর তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে তাকে সাক্ষী করার পরিবর্তে আসামি করা হতে পারে—এমন কথা বলা হয়েছে।

0 এসএসসি, এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তাব

কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তাব দিয়েছেন মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করবে। বিষয়টি নিয়ে ১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গতকাল রোববার দেশের ২২টি সরকারি ও দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে সভা হয়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ দুটি হলো: বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ। এই সভায় অধ্যক্ষরা এ প্রস্তাব দেন। সভাসূত্র জানায়, সভায় উপস্থিত বেশির ভাগ অধ্যক্ষ বলেন, প্রতিবছর ভর্তির জন্য ৫০-৬০ হাজার ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) যেখানে একটি আসনের বিপরীতে সর্বোচ্চ তিন-চারজনের পরীক্ষা নিচ্ছে, সেখানে গত বছর এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে তিন হাজার আসনের বিপরীতে ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা নিতে হয়েছে।
সভায় বলা হয়, ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফলকে গুরুত্ব দিলে রাজধানীর হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে এ সমস্যা সমাধানে জেলা কোটা ও অনগ্রসর অঞ্চলগুলোর জন্য নির্দিষ্ট কোটা কঠোরভাবে মানতে হবে।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক শাহ আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, সভায় অধ্যক্ষদের বেশির ভাগই ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাঁরা বলেছেন, এখন সুষ্ঠুভাবে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে। বোর্ডের মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিয়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা যেতে পারে।
ফলাফলের ভিত্তিতে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করা হবে জানতে চাইলে শাহ আবদুল লতিফ বলেন, একজন শিক্ষার্থী জীববিজ্ঞানসহ নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কত নম্বর পেয়েছে, তা দেখা হবে। চতুর্থ বিষয় ছাড়া কত পেয়েছে এবং চতুর্থ বিষয়সহ কত পেয়েছে তাও দেখা হবে। যে শিক্ষার্থী চতুর্থ বিষয় ছাড়াই ভালো ফল করেছে, সে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবে।
সভায় উপস্থিত একজন অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছাপাখানা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা, পরীক্ষার আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র বেচাকেনাসহ নানা ধরনের সমস্যা হওয়ায় এবার পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বেশির ভাগ অধ্যক্ষ। তাঁরা বলেছেন, ভর্তি পরীক্ষা না হলে কোচিং সেন্টারগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে যেসব কোচিং সেন্টার নানাভাবে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের প্রতারণা করছে, তাও বন্ধ হবে।
সভাসূত্র জানায়, সভায় কোনো কোনো অধ্যক্ষ ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার বিপক্ষেও যুক্তি দেন। তাঁদের কেউ কেউ দুই ধাপে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা প্রথম দফায় বিসিএস পরীক্ষার আদলে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা এবং দ্বিতীয় দফায় লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করেন।
আবেদনের জন্য জিপিএ-৮ বহাল থাকছে: মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য গত বছরের মতো এবারও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা মিলিয়ে জিপিএ-৮ পেলেই ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে পারবেন। যদি ভর্তি পরীক্ষা হয়, সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর।

0 নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী দলীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য : খালেদা জিয়া

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এ প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। বিএনপি বলেছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না।
বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের সভায় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তাদের অংশীদারিত্বের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাব নিয়েও দল আলোচনা করে।
এই প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য বলে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানিয়ে দেয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাত্কারে রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটা নতুন কিছু নয়। অনেক আগে থেকে সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা একই
কথা বলে আসছেন। তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট—নিরপেক্ষ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের সময় যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে, তাতে বিরোধী দল বিএনপির অংশীদারিত্ব থাকতে পারে। বিবিসি বাংলাকে লন্ডনে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগেই নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে।
তবে সেই তিন মাস সংসদের কোনো অধিবেশন থাকবে না এবং সদস্যদের কোনো কার্যকরী ক্ষমতাও থাকবে না। এতে সংসদ সদস্যরাও প্রভাব খাটাতে পারবে না বলে তিনি দাবি করেন।

0 ড. ইউনূসের প্রতি আক্রোশের কারণ কী


নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে গত প্রায় তিন বছর ধরে একের পর এক বৈরী আচরণ করে চলেছে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করেই ক্ষান্ত হয়নি— এখন ৬০ বছর পরবর্তী সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেতনভাতা গ্রহণের বৈধতা খতিয়ে দেখছে সরকার। সরকার একইসঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকতে ড. ইউনূসের ওয়েজ আর্নার্স হিসেবে কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করেছেন এবং তা বৈধ ছিল কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখবে। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয় দুটি খতিয়ে দেখে দ্রুততার সঙ্গে মন্ত্রিসভাকে জানাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে পৃথক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০১২-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত অধ্যাদেশে এমডি নিয়োগে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কর্তৃত্ব বাড়ানো হয়েছে। এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর ওই দিন এক বিবৃতিতে গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এমডি ড. ইউনূস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত গর্বের ব্যাংকটিকে ধ্বংস করে দেবে। সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এমন বৈরী আচরণ করছে এ ব্যাপারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস কখনোই কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এর মধ্যে যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিদ্যমান এ বিষয়টি নানাভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং ড. ইউনূসকে অপসারণ : ১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হওয়ার পর থেকেই ইউনূস এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে এলেও ২০১১ সালে অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তার এমডি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে গত বছরের ২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে অপসারণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ড. ইউনূস উচ্চ আদালতে যান; কিন্তু আদালতের রায় তার বিপক্ষে যায়। ফলে গত বছরের ১২ মে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দেন। ক্ষুদ্রঋণের উদ্যোক্তা নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনূসকে অপসারণ নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র থেকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়; কিন্তু দেশি-বিদেশি চাপ উপেক্ষা করে সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে ড. ইউনূসকে হেয় করতে সরকারের উচ্চ মহল থেকে নানা পদক্ষেপ চলতে থাকে। যার সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত : ২০১০ সালে ৩০ নভেম্বর নরওয়ের একটি টিভি চ্যানেলে খবর প্রচারিত হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ গ্রামীণ কল্যাণ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নিয়েছিলেন। এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই বছর ৫ ডিসেম্বর এক ঘোষণায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এ বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন। এরই মধ্যে নরওয়ে সরকার ঘোষণা দেয় বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে। পরে নরওয়ের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী এরিক সোলেইম সাফ জানিয়ে দেন, গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল সরানোর অভিযোগ তদন্তে দেখা গেছে কোনো অসত্ উদ্দেশ্যে কিংবা দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের জন্য ওই কাজ করা হয়নি। ১৯৯৮ সালে মূল তহবিলে অর্থ ফেরত দেয়ার মাধ্যমে তখন বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। নরওয়ের মন্ত্রীর ওই ঘোষণার পরও তত্পর হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের জন্য গঠন করা হয় ৫ সদস্যের বিশেষ কমিটি।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি : গত বছর ১২ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ৫ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনোয়ার উদ্দীন আহমেদকে কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা, সাবেক ডেপুটি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল সৈয়দা রোকেয়া দীন, বিআইবিএমের সাবেক অধ্যাপক আরএম দেবনাথ এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশীদ। সরকারি প্রজ্ঞাপনে পর্যালোচনা কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয় । বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করায় গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রামীণ ব্যাংক ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে। গ্রামীণ ব্যাংক স্থাপিত হওয়ার পর এর কার্যক্রম তেমনভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অবস্থান জানার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হলো।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন : নিউইয়র্ক টাইমসে আবারও ড. ইউনূসকে নিয়ে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। গত বছর ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত এ রিপোর্টে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির জনক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বিদ্বেষের বিষয় স্থান পেয়েছে। আবার কোনো সেনাসমর্থিত সরকার অথবা সামরিক সরকার এসে ড. ইউনূসকে তাদের গুরু হিসেবে বিবেচনা করুক—এ ভয়েই শেখ হাসিনা ড. ইউনূসের ইমেজ ধূলিসাত্ করতে চান। নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ হলে তাকেও শেখ হাসিনার রোষানলে পড়তে হবে আশঙ্কায় তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে অনুরোধ জানিয়েছেন তা গোপন রাখতে। ওই কর্মকর্তা টাইমসকে আরও বলেছেন, ১৯৯৬ সালের গোড়ার দিকেই শেখ হাসিনার মনে হয় ড. ইউনূসের জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে এক সময় তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হবেন। এ আশঙ্কা থেকেই গ্রামীণ ব্যাংক এবং তার প্রতিষ্ঠাতার স্বাধীনতা সঙ্কুচিত করতে চান। তিনি ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন দেখতে চান। অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তার প্রতি শেখ হাসিনার হিংসা আরও চরম আকার ধারণ করে। তাকে পলিটিক্যাল থ্রেট হিসেবে বিবেচনা করতে থাকেন তিনি।
ফরাসি পত্রিকায় খবর : ‘ক্ষুদ্রঋণের জনক ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, এখানকার সরকার তার সুখ্যাতিতে বিরক্ত।’ ফ্রান্সের প্রভাবশালী দৈনিক ‘লা মঁদ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের শিরোনাম এটি। গত বছর ৩ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই দৈনিকটি প্রফেসর ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে একটি প্রতিবেদন ফলাও করে প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির বিশেষ সংবাদদাতা ফ্রেডেরিক ববিনের ঢাকা থেকে প্রেরিত জবানির একটি অংশে বলা হয়, ঢাকার সাধারণ মানুষ মনে করেন— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রফেসর ইউনূসকে একজন বড় শত্রু মনে করেন, যার কারণ ব্যক্তিগত ঈর্ষা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা এবং অকৃতজ্ঞতা।
দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ : গত ১২ তারিখ ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করা হয়েছে। ড. ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ সালে ক্ষুদ্রঋণের ধারণা ও সাফল্যের জন্য নোবেল পাওয়ায় এবং ২০০৭ সালে রাজনীতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা তাকে প্রতিপক্ষ মনে করে আসছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরভিসন্ধি রয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে যেসব ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার পেছনে শেখ হাসিনা ইন্ধন দিয়ে চলেছেন। প্রতিবেদনে দারিদ্র্য বিমোচনের এই সামাজিক উদ্যোগটি গরিবের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়ার এক স্থূল প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে উল্লেখ করা হয়ে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, ড. ইউনূসের সম্মান ভূলুণ্ঠিত না করা পর্যন্ত সরকার ক্ষান্ত হবে না।
নিউইয়র্ক টাইমসকে ড. ইউনূস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কীভাবে বর্ণনা করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শান্তিতে নোবেলজয়ী গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটা আপনি ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। আমাদের কখনও সামনাসামনি দেখা হয়নি। যদিও আমি তার সাক্ষাত্ পেতে অ্যাপয়েনমেন্ট জোগাড় করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কখনোই দেখা হলো না।’
গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক সাক্ষাত্কারে ড. ইউনূস একথা বলেন। আপনাকে সরকার কেন জোর করে সরিয়ে দিল? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কখনও এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেননি।
কাজেই আমিও বুঝতে পারিনি আসলে কী ঘটছে? নানা ধরনের কিছু অনুমান সংবাদমাধ্যমগুলোতে আলোচিত হয়েছে। এ অনুমানগুলোর একটি হলো, আমি তার
প্রতি রাজনৈতিক হুমকি। আমি বুঝি না, আমি কেন রাজনৈতিক হুমকি? তিনি কখনও বলেননি, আমি তার প্রতি রাজনৈতিক হুমকি। বললে খুব সম্ভবত তিনি এমন বলতেন, ‘আমি কেন তাকে রাজনৈতিক হুমকি মনে করব? তিনি কে? তিনি কিছুই না।’

0 বাংলাদেশ-ভারত ‘মৃত্যুর সীমান্ত’


বাংলাদেশ-ভারত ‘মৃত্যুর সীমান্ত’

সাইফুল সামিন | তারিখ: ০৪-০২-২০১২ 

বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত বিশ্বের সবচেয়ে মরণঘাতী সীমান্তে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুসারে গত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।
বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিহত হওয়ার এ সংখ্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসেবে, গত এক দশকে সীমান্তে বাংলাদেশের প্রায় এক হাজার মানুষ বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছে।
অধিকারের হিসাবে, ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত মোট ৭৮৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে ৮৪৬ জন আহত ও ৮৯৫ জন অপহূত হয়েছে।
অধিকারের সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, সীমান্তে ২০০৯ সালে ৮৯ জন ও ২০১০ সালে ৭৪ জন বাংলাদেশি বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছে।
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা বন্ধে ভারতের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট করে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এ হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিএসএফ ৩১ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে।
অধিকার জানিয়েছে, তুলনামূলকভাবে ২০১১ সালে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার সংখ্যা হ্রাস পেলেও অপহরণ ও জোর করে আটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ২০১১ সালের ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, সরকারি হিসাব অনুসারে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ২০০৯ সালে ৬৭ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ২০১০ সালে ৬০ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হয়েছে।
তবে ২০০৬ সাল থেকে মাত্র ৩৬৪ বাংলাদেশি ও ১৬৪ জন ভারতীয়কে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বিএসএফ।
ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে গত ১০ বছরে প্রতিবেশী এ দুই দেশের সীমান্তে প্রায় এক হাজার বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলা হয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারতের এই সীমান্ত এলাকা দক্ষিণ এশিয়ার বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন সংবাদমাধ্যম গ্লোবালপোস্ট তাদের এক নিবন্ধে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে অভিহিত করেছে ‘মৃত্যুর প্রাচীর’ হিসেবে।
খোদ ভারতের গণমাধ্যমগুলোরও সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে খবর প্রকাশের নজির রয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দু এ নিয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশি যুবক হাবিবুর রহমান ওরফে হবুর নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় নয়াদিল্লির নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে ‘সীমান্তে বর্বরতা’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, সীমান্তে অবৈধ কার্যকলাপ ঠেকাতে গুলি ব্যবহার না করার বিষয়ে ২০১১ সালের মার্চে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘সমঝোতা’ হয়েছে। এ সমঝোতার পর প্রাণহানির ঘটনা কমে এসেছে। তবে সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ভিডিও এটাই প্রমাণ করে যে বিএসএফ সদস্যরা তাদের খেয়াল-খুশি মতোই বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর বিভিন্নভাবে সহিংস আচরণ করছে।

0 জাতিসংঘ শান্তি তহবিলের সদস্য হলো বাংলাদেশ


শিপা হাফিজ

নিউ ইয়র্ক, ১৮ জানুয়ারি: জাতিসংঘের শান্তি তহবিলের উপদেষ্টা পরিষদে প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।  জাতিসংঘের নিউ ইয়র্ক দফতরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য দিয়েছে।

সদস্য পদে বাংলাদেশের প্রার্থী শিপা হাফিজ এখন থেকে প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের তহবিলটির অর্থ ব্যবস্থাপনা ও এর মাধ্যমে বিভিন্ন যুদ্ধোত্তর দেশে শান্তি স্থাপনে দরকারি দিক নির্দেশনা দেবেন। এ পরিষদের অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আছে আমেরিকা, হল্যান্ড, দক্ষিণ আফৃকা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, বৃটেন, ব্রাজিল, মিশর ও জাপান।

শিপা বর্তমানে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক।

যুদ্ধ বা সংঘাত পরবর্তী দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রাকের ‘অনন্য’ ভূমিকা এবং এ পর্যন্ত ৮টি দেশে তহবিলের অধীনে শান্তি কমিশনের কাজে নিয়োজিত থাকার স্বীকৃতি হিসেবেই প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শিপা হাফিজ নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।

১৯৫৬ সালে জন্ম নেয়া শিপা তার উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন আমেরিকার ভারমন্টে অবস্থিত ‘স্কুল ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনিং’(এসআইটি) থেকে। এসআইটি থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বিষয়াদির ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯০ সালে ব্র্যাকে যোগ দেন তিনি।

0 মন্ত্রীর ভাই বাচ্চু'র জামিন


মন্ত্রীর ভাই বাচ্চু'র জামিন
মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১২
নরসিংদী পৌর মেয়র লোকমান হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজি উদ্দিন আহম্মেদ রাজুর ছোট ভাই সালাউদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামী বাচ্চু, আমির হোসেন আমু ও মামুনকে ১দিনের রিমান্ড শেষে আজ সকাল সাড়ে ৯ টায় নেয়া হয় নরসিংদী চীফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নিতাই চন্দ্র সাহার আদালতে। মামলার তদন্তকর্মকর্তা ও ডিবি ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল আসামীদের আরও ৩দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামীর পক্ষে আইনজীবীরা তাদের পক্ষে জামিন আবেদন করেন। আদালত বাদী এবং আসামীর পক্ষের আইনজীবীদের শুনানী শেষে রিমান্ড এবং জামিন না মঞ্জুর করে আসামীদের জেল হাজতে প্রেরনের নিদের্শ দেন। দুপুরে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ ড.শাহজাহান-এর আদালতে আসামী সালাউদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু, আমির হোসেন আমু,মামুন,হাজী সেলিম ও হিরণের জামিনের শুনানীর পর জামিন মঞ্জুর করেন।
সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১২ ১৯:৪১

 

BANGLADESHI UPDATE NEWS Copyright © 2011 - |- Template created by O Pregador - |- Powered by Blogger Templates