Showing posts with label update education news bd. Show all posts
Showing posts with label update education news bd. Show all posts

0 নৌমন্ত্রীর ওপর জুতাবৃষ্টি : ঢাকায় আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনে ইসলামী রাজনীতি নিয়ে মন্তব্যের জের

ইসলামী রাজনীতি ও রাসুল (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ওপর গতকাল বৃষ্টির ধারার মতো একের পর এক জুতা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ সময় তাকে ‘কুত্তা’সহ বিভিন্ন শব্দ প্রয়োগে ভর্ত্সনা করা হয়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে একপর্যায়ে পালিয়ে যান মন্ত্রী শাজাহান খান।
গতকাল সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে জুতা নিক্ষেপের শিকার হন শাজাহান খান। মুহুর্মুহু জুতা নিক্ষেপের কারণে এ সময় সেখানে এক অভূতপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান অতিথির বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘ইসলাম পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এ ধর্ম নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ করুন। রাসুল (সা.) ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেননি। কোরআনের কোথাও ধর্মীয় রাজনীতির কথা নেই। কোরআনে এ সম্পর্কে কোনো আয়াত নেই। রাসুল (সা.) ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করতেন না। তিনি এ কাজটি কখনও করেননি।’
তখন মুসল্লিদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান, মুসলমান হিসেবে মন্ত্রী কেন তাহলে রাজনীতি করছেন। এ সময় অন্য মুসল্লিরাও মন্ত্রীর এ কথার ব্যাখ্যা দাবি করে হইচই করতে থাকলে মন্ত্রী কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে উত্তেজিত বক্তব্য রাখলে মুসল্লিরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় মন্ত্রীসহ অনেকের গায়ে জুতা গিয়ে পড়তে থাকে। মুসল্লিরা উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘আমরা তোমাকে চাই না, ওকে আনছেন কেন, কুত্তা এখান থেকে ভাগ।’ এ সময় বৃষ্টির মতো জুতা নিক্ষেপ হতে থাকে মঞ্চে।
অবস্থা বেগতিক দেখে মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন মন্ত্রীকে দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। অতি দ্রুত তিনি ইমলামিক ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। এ সময় পেছন থেকে মুসল্লিরা ‘ধর ধর’ আওয়াজ দিতে থাকেন। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পরও মুসল্লিরা বলতে থাকেন যে, ‘জুতা মারছে, একেবারেই রাইট করছে। গালে দুইটা মারা দরকার ছিল।’
এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজলসহ আয়োজকরা হতভম্ব হয়ে যান। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর দেখা যায় মঞ্চে বহু জুতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যেগুলো মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের মতো ক্ষমতাধর শাসকদের ওপর জুতা নিক্ষেপ করা হলেও বাংলাদেশে কোনো মন্ত্রীর ওপর জুতা নিক্ষেপের এটাই প্রথম ঘটনা, যার শিকার হলেন মহাজোট সরকারের একজন দাপুটে মন্ত্রী।
এর আগে অনুষ্ঠানে শাজাহান খান আরও বলেন, বিশ্বের অনেক স্থানের চেয়ে বাংলাদেশের মুসলমানরা বেশি ধর্মপরায়ণ। শেখ মুজিব ও তার মেয়ে শেখ হাসিনাও ইসলামের অন্যতম খেদমতকারী।
গতকাল বেসরকারি সংগঠন আন্তর্জাতিক কোরআন রিসাইটেশন অ্যাসোসিয়েশনের (ইকরা) উদ্যোগে আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ছাড়া মিসর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, ব্রুনাইসহ ৭টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইরান সংস্কৃতি কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা এবং ইকরার চেয়ারম্যান কারি ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মূল অংশের বাইরে পূর্ব চত্বরে বেলা ৩টা থেকে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। এতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। তবে বাদ মাগরিব প্রতিযোগিতার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
জুতা নিক্ষেপের ঘটনার পরপরই তার সঙ্গে ইফা ডিজি শামীম মো. আফজলও চলে যান। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বাদ এশা ফের কিরাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
এ ব্যাপারে মন্ত্রী শাজাহান খান ওই অনুষ্ঠানে ঝামেলা হয়েছে উল্লেখ করে আমার দেশ-কে বলেন, এটা জামায়াতি চক্রান্ত। বহির্বিশ্বের ৭টি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে এ ঘটনার মাধ্যমে এদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

0 ছাত্রলীগের ৯ নেতার প্রশ্রয়ে ওরা বেপরোয়া

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৩৫ জনের একটি 'ক্রেজি টিম' আছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যারা জড়িত তারা এই দলেরই সদস্য। ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন সূত্র মতে, এই দলের অন্তত ১৯ জন বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জড়িত। বর্তমান ও সাবেক ৯ নেতার মদদে এই ক্রেজি টিম পুরান ঢাকায় এখন বেপরোয়া।
এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করার কথা স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, তাঁরা অন্তত ১১ জনকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে শনাক্ত হওয়া ১৪ জন গোয়েন্দা নজরদারিতে আছে। যেকোনো মূহূর্তে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে ১১ জনের তালিকা তৈরি করেছে।
৯ নেতার মদদে 'ক্রেজি' : অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক ও বর্তমান ৯ জন নেতার মদদেই জগন্নাথের ছাত্রলীগকর্মীদের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবরোধের দিন যারা হামলা চালিয়েছে, তারা এসব নেতার অনুসারী। বিভিন্ন অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেও এসব ছাত্রলীগ ক্যাডারকে নিয়ে গ্রুপিং করছেন ওই সব ছাত্রলীগ নেতা। নেতাদের হাত ধরে রাজনীতিতে পা দিয়ে তারা এখন পদ লাভের চেষ্টা করছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের জগন্নাথ শাখার সাবেক সভাপতি কামারুল হাসান রিপনের গ্রুপে রাজনীতি করে জহির উদ্দিন বাবর। বাবরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ছাত্রী লাঞ্ছনা, সাধারণ ছাত্রদের মারধর, ছাত্রদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়, মোবাইল ফোন ছিনতাই, মাদক ও ইয়াবা সেবন এবং পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। বাবর বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির উপনাট্য ও বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক। বর্তমান কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলামের গ্রুপের সজীব, কালা সুমন, ইমদাদসহ কয়েকজন এবং সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া, শাকিল, সঞ্জীব, তাহসিনসহ কয়েকজন বাবরের নেতৃত্বেই চলে।
সূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের মদদে আছে মিলন, জাহিদুল্লাহ মামুন ও আলামিন। সভাপতির গ্রুপে আছে মোশারফ, আজিজুল, সোহেল, সরলসহ কয়েকজন। কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক সাফায়াত উল্লাহ সাফায়েত নিয়ন্ত্রণ করেন রনি ও পিরোজপুরের প্রিন্সসহ কয়েকজনকে। সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আখন্দ গ্রুপে আছে রাজন, আগুনসহ কয়েকজন। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আরিফুল ইসলামের গ্রুপে আছে রফিকুল, আলাউদ্দিন, তরিকুলসহ কয়েকজন। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিনের গ্রুপে আছে নাহিদ, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রিন্সসহ কয়েকজন। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শ্রাবণের গ্রুপে সাইফুল, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও বিনয়সহ কয়েকজন। সূত্রে জানা যায়, কিবরিয়া কেন্দ্রীয় এক নেতার মদদপুষ্ট। সরকারের ঊর্ধ্বতন একটি মহলের ইন্ধনে চলছে মাগুরার ছেলে ইউনুস। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের এক তরুণ সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে চলে অভিযুক্ত নাহিদ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আরিফুল ইসলাম অভিযুক্তদের মদদ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন 'আমি দীর্ঘদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি। আমি থাকা অবস্থায় এ ছেলেদের কয়েকবার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। সে সময় তারা দলে সক্রিয় হতে পারেনি।'
সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, 'আমরা এদের সুযোগ দিইনি। কিন্তু এখন কমিটিতে ঢোকার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। কেউ কেউ আবার তাদের মদদ দিচ্ছেন বলেও শুনতে পাই।'
পদ পেতেই বেপরোয়া : ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী জানিয়েছে, জগন্নাথে সভাপতি ও সম্পাদকের কমিটি থাকলেও বিভিন্ন পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় এবং সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ রাখে। এ যোগাযোগের কারণে বহিষ্কৃত হয়েও দলে সক্রিয় রয়েছে তারা। একের পর এক অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছে তারা।
আরো জানা গেছে, আগামী ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েকজনের সিভি (জীবনবৃত্তান্ত) গ্রহণ করা হয়েছে। এসব সিভি কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের কাছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। কর্মীরা জানায়, নতুন কমিটিতে সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর, প্রচার, অর্থসহ বিভিন্ন সম্পাদক পদ পাওয়ার জন্য অভিযুক্ত কয়েকজন জোর লবিং চালাচ্ছিল। তাই তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বেশি ভূমিকা দেখাতে চাইছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা সবাই পদপ্রত্যাশী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম শাকিলের বড় ভাই শাহিন হাওলাদার তৎকালীন পটুয়াখালী পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে শাহিন হাওলাদার পটুয়াখালী পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। এসব প্রকাশের পরও ছাত্রলীগ নেতা বাবর শাকিলকে মদদ দেন। রক্ষা করেন বিভিন্ন অভিযোগ থেকে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ভোলার ছেলে মাহফুজুর রহমান নাহিদ ২০১১ সালের আহ্বায়ক কমিটিতে বরিশাল গ্রুপ হিসেবে খ্যাত যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিনের গ্রুপে যোগ দেয়। এরপর বেশ কয়েকটি অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে নাহিদ আলোচনায় উঠে এলেও নিজাম তাকে রক্ষা করেন। তিনি বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহসভাপতি পদপ্রার্থী।
বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর এখন প্রকাশ পেয়েছে, নাহিদ ছাত্রলীগ করার আগে শিবিরের রাজনীতি করত। আবদুল কাদের তাহসিন ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির পর সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের সঙ্গে যোগ দেয়। রিপনের ক্যাডার জহির উদ্দিন বাবরের সঙ্গে কাজ করত সে। তাহসিনের বড় ভাই তাফসীরুল কাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের একটি হলের সভাপতি ছিলেন। ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের গ্রুপে যোগ দেয় এবং ছাত্রলীগের ক্যাডার বাবরের সঙ্গে মিলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। বর্তমান কমিটির সভাপতি শরিফুল গ্রুপের রাজনীতি করে ইমদাদ। মীর নুরে আলম লিমন কামরুল হাসান রিপনের অনুসারী ও বাবরের সহকারী। চলতি বছরের ৩ অক্টোবর ছাত্রলীগ নতুন কমিটি দিলে সভাপতি শরিফুল ইসলামের গ্রুপে যোগ দেয়। সে নতুন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ছিল। রাশেদুজ্জামান শাওন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শ্রাবণের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
ক্রেজি টিমে যারা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাধিক সক্রিয় কর্মী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানায়, বিভিন্ন গ্রুপের কিছু বেপরোয়া কর্মী বিরোধী দলের কর্মসূচির সময় মিছিল-মিটিংয়ের সামনের দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। তারাই বেপরোয়া হামলা চালায়। কয়েকজনের কাছে থাকে চাপাতি, ছুরিসহ ধারালো অস্ত্র। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় সাধারণ কর্মীরা এদের 'ক্রেজি' বলে অভিহিত করে। এই ক্রেজি ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে আছে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ, রাজন তালুকদার, মীর নুরে আলম লিমন, আবদুল কাদের তাহসিন, রফিকুল ইসলাম শাকিল, আজিজুল হক, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, ইউনুছ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, এইচ এম কিবরিয়া, প্রাণিবিদ্যার ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সজীব ও সোহেল, সরল, আল আমিন উজ্জল, ছাহিদুল হক মানিক, রনি, আলাউদ্দিন, শিপলু ওরফে শেপু, শান্ত, শহিদুল, তরিকুল, রফিকুল, সাইফুল, সঞ্জীব বসাক, জাহিদুল্লাহ মামুন, জনি, আবু তাহের, সেলিম, টিপু, জাহিদ, রুদ্র, মোশারফ, সৌরভ ও নূরুদ্দিন সুমন ওরফে কালা সুমন।
জানা গেছে, ক্রেজি টিমের ৩৫ জনের মধ্যে ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন সূত্রের সহায়তায় বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জড়িত অন্তত ১৯ জনকে শনাক্ত করা গেছে। তারা হলো মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ, রাজন তালুকদার, মীর নুরে আলম লিমন, আবদুল কাদের তাহসিন, রফিকুল ইসলাম শাকিল, আজিজুল হক, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, ইউনুছ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, এইচ এম কিবরিয়া, প্রাণিবিদ্যার ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সজীব ও সোহেল, শিপলু, আল আমিন উজ্জল, আলাউদ্দিন, সাইফুল, হিসাববিজ্ঞানের মোশারফ ও কালা সুমন। গ্রুপের রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাজন তালুকদার ও লিমন সব সময় সঙ্গে চাপাতি বহন করে। ঘটনার দিন ভিক্টোরিয়া ডেন্টাল ক্লিনিকের দোতলায় রাজনই প্রথম বিশ্বজিৎকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে শাকিল, নাহিদ, ইউনুস, তাহসিনসহ অন্যরা হামলা চালায়।
আরো জানা গেছে, সেদিন ক্রেজি গ্রুপের কিছু সদস্য নিচে অপেক্ষা করছিল। বিশ্বজিৎ জীবন বাঁচাতে ভবন থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা হামলা চালায়। আরো জানা গেছে, মিছিল থেকে কবি নজরুল সরকারি কলেজের কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী বিশ্বজিতের ওপর হামলায় অংশ নেয়। তবে ছবি স্পষ্ট না থাকায় তাদেরকে কেউই শনাক্ত করতে পারছে না। তবে জানা গেছে, ওই হামলার মিছিলে কবি নজরুল কলেজের কালা পারভেজ, হোসেন ও সায়মন উপস্থিত ছিল।
গোয়েন্দা তালিকায় ১১ জন : সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে ১০ জনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলো রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, নুরে আলম লিমন, আবদুল কাদের তাহসিন, সাইফুল ইসলাম, রাজন তালুকদার, আজিজুল হক, আল আমিন, রাশেদুজ্জামান শাওন, ইউনুস আলী ও শিপলু।
ছাত্রলীগের বক্তব্য : অভিযোগ ও সার্বিক ঘটনা প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ছাত্রলীগের বহিরাগত সাবেক নেতাদের মদদে কিছু বহিষ্কৃত কর্মী হত্যা করেছে বিশ্বজিৎকে। আমি এ ঘটনা কিছুই জানতাম না। জন্মদিনের অনুষ্ঠানের সময়ও আমি কিছু শুনিনি।' শরিফুল স্বীকার করেন, ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে কয়েকজন বেপরোয়া হয়ে হামলা চালায়। তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না দাবি করে তিনি বলেন, তারা ছাত্রলীগের কোনো পদে নেই। তবে ভবিষ্যতে যেন তারা পদে না আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এ ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি হয়নি।

0 রাজধানীর বাইরে

(১) সিরাজগঞ্জে অবরোধকারীদের দখলে মহাসড়ক; (২) খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া; (৩) বাসে আগুন; (৪) পটুয়াখালীতে ঢাকা-কুয়াকাটা সড়কে মোটরসাইকেলে আগুন এবং (৫) পাবনায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন : নয়া দিগন্ত
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকে গতকাল সারা দেশে কড়া অবরোধ পালিত হয়। অবরোধ চলাকালে সারা দেশেই ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জে ছাত্রলীগের হামলায় একজন জামায়াতকর্মী নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছেন। সারা দেশে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অবরোধকারীদের সংঘর্ষে ১০৫০ জনেরও বেশি আহত এবং প্রায় ২০০ গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মীরা অবরোধকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করে। বেশ কয়েকটি স্থানে গুলিতে বিরোধীপক্ষের বহু নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আমাদের ব্যুরো, অফিস ও সংবাদদাতারা এ খবর জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে অবরোধকালে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছিল এ পরিস্থিতি। অবরোধকারীরা বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান নেন নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি ১৮ দলের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নেন অভ্যন্তরীণ সড়ক ও মহাসড়কে। বিরোধী দলের যেকোনো কর্মসূচিতে পুলিশ মারমুখী থাকলেও গতকাল বিপুলসংখ্যক অবরোধকারীদের সামনে পুলিশ ছিল মূলত অসহায়। তাই নগরের কোনো স্পটে পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অবরোধ চলাকালে চট্টগ্রামে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।
অবরোধ চলাকালে এ কে খান মোড়ে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র মনজুর আলম ও বিএনপি গোলাম আকবর খন্দকার বক্তব্য রাখেন।
নগরীর শাহ আমানত সেতু চত্বরে সকাল ৬টার আগে থেকেই বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে সেখানে নগর বিএনপির সাধারণ স¤পাদক ডা: শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে ও সহসভাপতি শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাকলিয়া থানা বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ।
সমাবেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা অবরোধের পে বক্তব্য দেন। কোতোয়ালি ও বাকলিয়া থানার জামায়াত নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে মিছিল ও সমাবেশ করে। সকাল ৯টার দিকে বাকলিয়া থানা জামায়াতের একটি মিছিল সমাবেশস্থলে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিপুলসংখ্যক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী দেখে পুলিশ অসহায় হয়ে পড়ে।
রাজশাহী : বিপ্তি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অবরোধ চলাকালে সকালে নগরীর বিনোদপুর এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও বিপ্তি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করতে দেখা গেছে। অবরোধের সমর্থনে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের খণ্ড খণ্ড মিছিলে গোটা নগরীজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ বিরাজ করে। মূলত ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের দখলে ছিল রাজশাহী মহাসড়ক।
সকাল ৭টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারে পুলিশের সাথে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রায় আধঘণ্টা উভয় পরে মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, রেলগেট, শালবাগান, বায়া ও নওদাপাড়া এলাকায় ১৮ দলীয় জোটের কর্মীরা অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করেন এবং মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবরোধ শুরুর দিকে সড়কে কিছু অটোরিকশা ও রিকশা দেখা গেলেও বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।
রাজশাহী নগরীর সপুরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ তৈরি করে সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে অবরোধ পালন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু।
শালবাগান বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন কাশিয়াডাংগা মোড়ে নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান করেন। আর বিনোদপুর এলাকায় অবরোধে নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবদল আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
খুলনা : পুলিশের বাধা, সংঘর্ষ, গুলি ও লাঠিচার্জের মধ্য দিয়ে খুলনায় অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্য তারিকুল ইসলাম ও দৌলতপুর থানা সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক নান্নুসহ ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অবরোধ চলাকালে পুলিশ মহানগর ও জেলা থেকে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সকাল সোয়া ৮টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন মহসিন মোড়ের তেঁতুলতলায় বিএনপিসহ জোটের নেতাকর্মীরা সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়ে নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা শুরু করেন। তখন খালিশপুর ও দৌলতপুর জোনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মাহমুদ শওকত আলী ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) টি এম মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাস্তা থেকে তাদের চলে যেতে বলেন। এ সময় মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্য তারিকুল ইসলাম পুলিশ অফিসারদের সাথে কথা বলতে চাইলে ডিসি হাসান মাহমুদ শতকত আলী প্তি হয়ে এক কনস্টেবলের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এরপর শুরু হয় ইটপাটকেল নিপে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ। পুলিশ মুহুর্মুহু গুলি ও টিয়ার শেল নিপে করে। এতে মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্য তারিকুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ সিরাজুল হক নান্নু, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এস এম জসিম উদ্দিন, শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম হোসেন, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতুল, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক উকিল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আমিন হোসেন, যুবদল নেতা সোহেল, ছাত্রদল নেতা সোহান হোসেন জয় গুলিবিদ্ধ হন। তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আব্দুল হালিম, হাফিজুর রহমান পিন্টু, ইমাম হোসেন, সেলিম আহসান, শহিদুল ইসলাম বিপ্লব, মাহবুবুর রহমান, সৈয়দ মাঈনুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন, সোহেল শেখ জন, বিপ্লব হোসেন, মনিরুল হক ও হেদায়েতুল্লাহ দিপু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আহত শ্রমিক দলের দৌলতপুর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম হোসেন, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক উকিল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আমিন হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল বিকেলে ঢাকায় পাঠানো হয়।
বরিশাল : বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের রূপাতলী দপদপিয়া ব্রিজ এলাকায় দুপুরে অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশ ৩৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। এ ছাড়াও নগরীর রূপাতলী ও গড়িয়ারপাড় এবং জেলার উজিরপুর, মুলাদী ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা সদরে অবরোধকারীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের হামলায় আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। এসব এলাকা থেকে পুলিশ ১৫ জনকে আটক করেছে।
অবরোধ চলাকালে বরিশালে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। কঠোর অবরোধ কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চল। পুরো রাজপথ ছিল ১৮ দলের নেতাকর্মীদের দখলে। রাজপথে জনস্রোতের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।
রংপুর : রংপুরে সকাল থেকেই পিকেটারদের গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে মহাসড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি। সকাল পৌনে ৮টায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের হাজিরহাটে পিকেটাররা একটি মাইক্রোবাস ও ট্রাক ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর আগে সাড়ে ৭টায় পাগলাপীরে সড়ক অবরোধ করে ভাঙচুর করে পিকেটাররা। সকাল ৭টায় পিকেটাররা মিঠাপুকুর উপজেলা সদরে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে টায়ারে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেখানে একটি বাস ভাঙচুর করে পিকেটাররা।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রলীগের হামলায় জামায়াত কর্মী ওয়ারেছ আলী নিহত হয়েছেন। নিহত ওয়ারেছ আলী এনায়েতপুর থানার সৈয়দপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর (৬২) ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যদর্শীরা জানায়, রোববার সকাল থেকে এনায়েতপুর থানার সামনে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর সড়কে অবরোধ তৈরি করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধকারী জামায়াত কর্মীদের একটি গ্র“প বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তারা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অবরোধবিরোধী মিছিলের সামনে পড়ে। সুযোগ বুঝে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা অবরোধকারীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি লাঠিসোটার আঘাতে ওয়ারেস আলী গুরুতরভাবে আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নেয়া হলে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল। এ দিকে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা কাপুরুশোচিতভাবে হামলা চালিয়ে এনায়েতপুর থানার সৈয়দপুর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক ওয়ারেছ আলীর হত্যার জন্য নিন্দা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ, সেক্রেটারি মাওলানা শাহিনুর আলম, এনায়েতপুর থানা জামায়াতের আমির ডা: সেলিম রেজা ও সেক্রেটারি ডা: মোফাজ্জল হোসেন সবুজ। তারা অবিলম্বে ওয়ারেছ আলীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কড্ডাতে পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ এবং পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়।
পটুয়াখালী :পটুয়াখালীতে সড়ক অবরোধ চলাকালে ১৮ দলীয় জোটের কর্মীদের সাথে পুুলিশ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছে। এতে জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটন, মিজানুর রহমান, জেসমিন জাফর, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মিলন, অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন, গোলাম মস্তফা, শহীদুল ইসলাম আকন, মামুন মৃধা, রুহুল আমিন, খালেক মাঝি, সজীব ও মিঠুসহ ৭০ জন আহত হয়। জেলায় আটক করা হয়েছে সাতজনকে।
গতকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ রব মিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে। সকাল ৯টার দিকে যুবলীগ ও শ্রমিকলীগ বশাকবাজার এলাকায় আবরোধকারীদের ওপর হামলা চালায়। সেখান থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলমগীর ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফোরকান সিকদারের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল মহড়া নিয়ে শিয়ালী এলাকায় অবরোধকারীদের ওপর হামলা চালায়। জোটের পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংর্ঘষ হয়। এতে জোটের সমর্থকদের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়। আহত এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা পিছু হটে যায়। এ সময় দু’টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় হয়।
এর আগে সকাল ৮টায় শহরের বশাকবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সাথে আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের হামলায় ২০ জন আহত হয়।
এ ছাড়া বাউফল উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন স্থানে ও বাসাবাড়িতে যুবলীগ, শ্রমিকলীগ ও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের গফরগাঁও, গৌরীপুর, ত্রিশাল ও ভালুকায় আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গফরগাঁওয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দুই শতাধিক রাবার বুলেট ও প্রায় অর্ধশত টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। কয়েক দফা সংঘর্ষে টিভি সাংবাদিক ও ১৪ পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আওয়ামী লীগ কর্মীরা মোহনা টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি রিপন গোয়ালাকে কুপিয়ে আহত করে এবং তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির দু’টি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এ দিকে গৌরীপুরের রামগোপালপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ দেখতে এসে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে ইব্রাহিম (৮) নামে এক শিশু মারা যায়। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গফরগাঁওয়ে অবরোধকারীরা ভোরে গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের রেললাইন ও গফরগাঁও রেলস্টেশনে অবস্থান নিলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় অবরোধকারীরা মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগ কর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা উপজেলা বিএনপির দু’টি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এর পর উপজেলা সদর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি দলীয় কর্মীরাও গুলি করে। সংঘর্ষের চিত্র ধারণকালে আওয়ামী লীগের কর্মীরা মোহনা টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি রিপন গোয়ালাকে কুপিয়ে আহত করে এবং তার ডিভি ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ দিকে ত্রিশালে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ওই সংঘর্ষ দেখতে এসে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে দৌলতপুর গ্রামের হবি মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম নিহত হয়।
মুন্সীগঞ্জ : ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের লৌহজংয়ের মাওয়া চৌরাস্তায়, শ্রীনগরের ছনবাড়ি, সিরাজদিখানের নিমতলা, কুচিয়ামোড়া এলাকায় অবরোধ চলাকালে পুলিশ-আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে লৌহজং থানার ওসি জাকিউর রহমানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় ৭০ রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। রোববার অবরোধ চলাকালে এ সংঘর্ষ হয়।
সকাল ৭টায় লৌহজংয়ের মাওয়া চৌরাস্তায় অবরোধকারীরা অবস্থান নিতে গেলে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় লৌহজং উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান খান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন, সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন দোলন, জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক অবাক, লৌহজং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামাল ঢালী, বিএনপি নেতা কামাল, গোলাম গাউস সিদ্দিকী, মহিলা দল নেত্রী আয়েশা আলম, শ্রীনগর যুবদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জেমস, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, যুবদল নেতা সোহাগ ঢালী, বাবু, মনির হোসেনসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ছাড়া সকাল ৬টা থেকে ৮টা শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি চৌরাস্তায় পুলিশের কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল ও কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে অবরোধকারীরা অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে। সেখানে আহত হন মনির হোসেন, উজ্জ্বল, মিজান ও ছাত্রদলের আলমগীর। একই সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা বাইপাস সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। এ ছাড়া সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে কুচিয়ামোড়া এলাকায় হামলায় আহত হন বিএনপি কর্মী সালাম, জহিরুল, সত্যা ও জয়বুল। নিমতলায় আহত হন সিরাজদিখান থানার এসআই জাহিদ হোসেন, সিপাহি আবুল হোসেনসহ বিএনপির ২০ নেতাকর্মী। নিমতলায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা দু’টি মার্কেট ও নিমতলার বিএনপির পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আওলাদ হোসেন সুপার মার্কেট, ইয়াজউদ্দিন সুপার মার্কেটের অর্ধশত দোকান ভাঙচুর করা হয়। মাওয়ায় পুলিশ ২০ রাউন্ড, কুচিয়ামোড়ায় ২৮ রাউন্ড ও নিমতলায় আরো ২০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেন।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা আট ঘণ্টার রাজপথ অবরোধ। ভোর থেকেই অবরোধের সমর্থনে বিএনপির কর্মীরা পিকেটিং করে। অপর দিকে অবরোধের বিপক্ষে সরকার দলীয় একটি লাঠি মিছিল বেলা ১১টায় শাপলা চত্বর থেকে ভাঙ্গাব্রিজ এলাকা অতিক্রম করার সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাধে। জেলাব্যাপী সংঘর্ষে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ উভয় দলের ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে জেলা বিএনপি জানিয়েছে তাদের ৩২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিএনপির কমপে ১০ জন আহত হয়েছেন।
বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা সকাল থেকে জেলার সব রাস্তায় শতাধিক স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। তারা রাজপথে সভা-সমাবেশ শুরু করে। এ সময় মিছিলে মিছিলে মুখর হয়ে ওঠে চার দিক। আওয়ামী লীগের কর্মীরাও মাথায় হেলমেট পরে রামদা, চাপাতি, রড ও লাঠি নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে আতঙ্কিত মানুষ একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হয়নি। যান চলাচল করেনি।
পিরোজপুর : পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলা সদরে মাওলানা সাঈদীর সমর্থকদের সাথে পুলিশ, আ’লীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলি ও লাঠির আঘাতে ২৮ জন আহত হন। পুলিশের গুলিতে আহত মোস্তফা মীর (৪৫) নামে এক ভ্যানচালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দিকে জিয়ানগর থানার ওসি নাসির উদ্দিনসহ ছয় পুলিশ ও তিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর হয়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীব কর্মীরা জিয়ানগর সদরে জামায়াত নেতা হাফেজ আলতাফ হোসেনের বাসায় হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৫৫ রাউন্ড চাইনিজ এসএমজি, চাইনিজ রাইফেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়েছে বলে জিয়ানগর থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে,গতকাল সকাল ১০টার দিকে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্মস্থান জিয়ানগর উপজেলার সাউথখালীসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষ সাঈদীর মুক্তির দাবিতে এক বিােভ মিছিল নিয়ে জিয়ানগর উপজেলা সদরে এলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় মিছিলকারীদের ধাওয়া খেয়ে তারা পিছু হটে যায়। পরে জিয়ানগর থানা ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে সরকার সমর্থকদের সাথে যোগ দিয়ে আবার সাঈদী সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। শুরু হয় উভয় পরে মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এ সময় বিএনপি অফিসের সামনে অবস্থানরত বিএনপি কর্মীরা সাঈদী সমর্থকদের সাথে যোগ দেন। বিােভকারীদের ওপর পুলিশ গুলি ও লাঠিচার্জ করে। পুলিশ বিােভকারীদের ওপর জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শঙ্কর কুণ্ডুর নির্দেশে গুলি চালিয়েছে বলে ওসি নাসির উদ্দিন জানান। সাঈদী সমর্থক ও জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের ইটপাটকেলে জিয়ানগর থানা ওসি ও পাঁচ কনস্টেবল আহত হন। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম ও আবদুল কাদের এবং আওয়ামী লীগ কর্মী তোবারেক হাওলাদার, সেলিম ও আলম মুন্সীকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ দিকে জেলার নাজিরপুরে পুলিশ আট বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার জকসিনবাজার, চরচামিতা ও রামগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পরে ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ট্রাক ও বাসসহ ১১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের চরচামিতা এলাকায় পুলিশ ও বিএনপির মধ্যে গোলাগুলিতে ঢাকা এক্সপ্রেস গাড়ির হেলপার মিজান, গ্রামীণ পরিবহনের সুপারভাইজার আজাদ ও লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক্যালের ছাত্র মেশকাতসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া সকাল ১০টায় একই উপজেলার জকসিনবাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। অপর দিকে জেলার রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর চৌরাস্তায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন পলাশসহ সাতজন আহত হয়। পরে রামগঞ্জের সোনাপুর এলাকায় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিপে করে। মুমূর্ষু অবস্থায় গিয়াস উদ্দিন পলাশকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
চুয়াডাঙ্গা ও জীবননগর : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবরোধ চলাকালে বিএনপি-জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ওসিসহ ১০ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপি অফিস ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের অফিস ও ২০টি মোটরসাইকেল। লুটপাট চালানো হয় কয়েকটি দোকানে। উপজেলা শহর জীবননগর রণেেত্র পরিণত হয়। আহত ওসি শাজাহান আলীকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নওগাঁ : নওগাঁয় ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন খণ্ড খণ্ড মিছিল করে। কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, তাজের মোড় এবং বাটার মোড়ে পৃথক অবরোধ গড়ে তুলে সমাবেশ করেছে। কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুবক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শহরের তাজের মোড় এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব:) আব্দুল লতিফ খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রতিবাদসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু। বাটার মোড়ে শহর বিএনপি পৃথক এক সমাবেশের আয়োজন করে।
অবরোধ চলাকালে নওগাঁ জেলা সদর থেকে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার কোনো যান চলাচল করেনি। অবরোধ কর্মসূচি পালনের সময় নওগাঁয় দু’টি ট্রাক এবং বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রানীনগর উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপি অফিসে অগ্নিসংযোগ করে এবং ভাঙচুর চালায়। এ সময় সংঘর্ষে উভয় পরে তিনজন কর্মী আহত হন। শহরের দয়ালের মোড় এলাকা থেকে রোববার শিবিরের তিন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার : কক্সবাজারে সর্বাত্মক অবরোধ পালিত হয়েছে। গতকাল রাজপথ ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের দখলে ছিল। তবে এ সময় জেলার বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিেেপ ৪০ জন আহত হয়েছে। আটক হয়েছেন ১৯ জন।
বর্তমান সরকারের সময় বিরোধী দলের সবচেয়ে কার্যকর কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল থেকে ১৮ দলের নেতাকর্মী, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা রাজপথ দখল করে নেয়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এ সময় রাস্তায় নেমে আসেন শত শত লোক। খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হয় ১৮ দলের পক্ষ থেকে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুলিশের উপস্থিতিও বেড়ে যায়। এ সময় পুলিশ কক্সবাজার বাসটার্মিনাল, ঈদগাহ ও চকরিয়া স্টেশনে মিছিলে লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে ৪০ জন আহত হন।
কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জসীম উদ্দিন জানান, কক্সবাজার বাসটার্মিনাল ও লিঙ্ক রোড এলাকা থেকে মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট আমিনুল হক, মিজকাতুল হামিদ, ফরিদুল হক, এনাতুল করিম, রিয়াজ মোহাম্মদ শাকিল ও কামাল উদ্দিন নামে সাতজনকে আটক করে পুলিশ।
এরা সবাই জামায়াত ও শিবিরকর্মী।এ ছাড়া অন্যান্য স্থান থেকে আরো চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অবরোধের কারণে যানবাহন বন্ধ থাকে। এতে অনেকটা হরতালের আমেজ চলে আসে।
নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সাথে অবরোধ পালনকারী বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ৫৫ জন আহত হয়েছেন। অবরোধকারীরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পাঁচটি মোটরসাইকেলসহ সাতটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও অর্ধশত যানবাহন ভাঙচুর করেন। পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের থেমে থেমে সংঘর্ষ চলাকালে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর থেকে বন্দরের লাঙ্গলবন্ধ পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার রণেেত্র পরিণত হয়। অবরোধ চলাকালে কাঁচপুর মূলত অচল হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যানবাহন।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২২৭ রাউন্ড টিয়ার শেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
আহতদের মধ্যে ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা শাহীনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশি শাহীনকে গোপনে চিকিৎসা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হবে বলে বিএনপির নেতারা জানান। শাহীন ১২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। সোনারগাঁও ছাত্রলীগের নেতা নাজমুলের ছোড়া গুলিতে শাহীন আহত হন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান।
গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান ও বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, বিএনপি নেতা গুলজার খান, ফখরুল ইসলাম মজনু, সাইদুর ও শাহ আলম। এ ছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামসহ আরো অনেকে।
অবরোধ সফল করতে গতকাল সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে ঘন কুয়াশা উপো করে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মী কাঁচপুরে মিছিল নিয়ে আসেন। একই সময় মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল এসে তাদের সাথে যোগ দেন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কাঁচপুর তিন রাস্তার মোড় অবরোধ করে পুলিশের সামনেই বিােভ করতে থাকেন। ৫ মিনিট পর সকাল সাড়ে ৭টায় অবরোধকারীরা একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। ওই সময় অবরোধকারীরা ঘন কুয়াশার আড়াল থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিপে করতে থাকলে পুলিশ টিয়ার শেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে জবাব দেয়। পুলিশের লাঠিচার্জে জেলা ওলামা দলের সভাপতি সামসুর রহমান খান বেনুর মাথা ফেটে যায় এবং শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কাঁচপুরের মডার্ন কিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর কিছুণ পরই যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে রূপগঞ্জ থেকে একটি মিছিল এসে কাঁচপুরে যোগ দেয়। সকাল পৌনে ৮টার দিকে কাঁচপুর ব্রিজের পূর্ব পাশে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেন অবরোধকারীরা। এরপর সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে বন্দরের মদনপুর পর্যন্ত সড়ক অবরোধকারীদের দখলে ছিল। অবরোধকারীরা সড়কে খণ্ড খণ্ড মিছিল করেন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বিএনপি নেতাদের বুঝিয়ে সড়কের ওপর থেকে সরিয়ে দিলেও কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। এমনকি রিকশাচালকেরাও রাস্তায় বের হননি।
সকাল ৯টার দিকে জামায়াতে ইসলামী একটি মিছিল নিয়ে কাঁচপুরে এলে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে শুরু হয় সংঘর্ষ।
এ দিকে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নেতৃত্বে অবরোধ কর্মসূচি পালন ও বিােভ মিছিল করলে সোনারগাঁও থানার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি মিছিল অবরোধকারীদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও গুলি ছুড়েছেন বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান। পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ছাত্রদল নেতা শাহীন। এ ছাড়া পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হন আরো চারজন।
গাজীপুর : গাজীপুরে গতকাল সর্বাত্মক অবরোধ পালিত হয়েছে। ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা জেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। অবরোধকালে জেলার কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর ও একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বিরোধী দলের পাঁচজনকে আটক করেছে। এ দিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা টঙ্গী থানা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন।
এ দিকে টঙ্গীতে গতকাল বেলা ১১টায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক কর্মীর একটি জঙ্গিমিছিল ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা রামদা, ছোরা ও হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশের দোকানপাট ও ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করেন। এ সময় তারা জামায়াত-শিবির কর্মী সন্দেহে সাধারণ পথচারীদের ওপর চড়াও হন। এতে ১০ জন পথচারী আহত হন। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা টঙ্গী পৌর ট্রাক টার্মিনালেও হামলা চালিয়ে ২৫টি ট্রাক ভাঙচুর করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। ঘটনার সময় র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা জঙ্গিমিছিলকে পেছন দিক থেকে অনুসরণ করছিলেন। মিছিলকে অনুসরণকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা মিছিলকারীদের চেয়ে সংখ্যায় বেশি থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে টঙ্গী থানা বিএনপি নেতারা জানান।
যশোর : যশোরে রাজপথ অবরোধকারী ও অবরোধের বিরোধীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী ১৮ দলের ডাকা সড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে। অবরোধ চলাকালে যশোরের সাথে দেশের ১৮টি রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে যশোর জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল ৭টা থেকে চাঁচড়া মোড়ে অবস্থান নেন। সাথে সাথে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরাও এখানে এসে যোগ দেন। পরে তরিকুল ইসলাম দুপুরে যশোরে খাজুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবরোধকারীদের সাথে গিয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া যশোর শহরের মুড়লী মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড ও মনিহার সিনেমা হলের সামনেও অবরোধ পালন করেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
অবরোধ চলাকালে বেলা ২টা পর্যন্ত যশোরের সাথে দেশের ১৮টি রুটে সব ভারী যান চলাচল বন্ধ ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ যশোরে আসতে না পারায় শহর ফাঁকা দেখা গেছে। যাত্রী না থাকায় শহরে রিকশা ও ইজিবাইকের উপস্থিতি ছিল কম।
এ দিকে রাজপথ অবরোধকালে যশোর-নড়াইল সড়কের ভাঙ্গুড়ার ধলগায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বেলা ১১টায় বাঘারপাড়ার সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটি মিছিল বের করে। এ সময় সেখানে অবরোধরত বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ধাওয়া করেন মিছিলকারীরা। বিএনপি নেতাকর্মীরাও তাদের ধাওয়া করলে দুই পক্ষে কিছু সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যশোর-মাগুরা সড়কের খাজুরা বাজারে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি ট্রাক ভাঙচুর করেন।
নোয়াখালী : নোয়াখালীতে অবরোধ কর্মসূচি পালনের সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং ১৮ দলীয় জোটের সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা বিএনপির অফিস ও বাইরে ব্যবসায়প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। জেলা শহর মাইজদী জেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী, সোনাইমুড়ী, চাটখিল, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সুবর্ণচর উপজেলায় ১৮ দলীয় জোটের নেতৃত্বে অবরোধ পালিত হয়। এসব এলাকায় সামান্য কিছু রিকশা ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সকাল ৬টা থেকে অবরোধ সমর্থনকারীরা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান করেন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শাহজাহান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ আজাদের নেতৃত্বে অবরোধের সমর্থনে এক বিশাল বিােভ মিছিল মাইজদী প্রধান শহর প্রদণি করে। জেলার প্রধান বাণিজ্য চৌমুহনীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আ: রহিম চৌমুহনী পৌর বিএনপি সভাপতি জহির উদ্দিন হারুন ও সাবেক ছাত্রদলের জেলা সেক্রেটারি জিএস সুমনের নেতৃত্বে অবরোধ পালিত হয়। এ ছাড়া সকাল ৭টায় কবিরহাটে ১৮ দলের নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। এতে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পিকেটারের হাতে কবিরহাট থানার ওসি মাহাবুববুর রহমান লাঞ্ছিত হয়। একই উপজেলার শাহারাস্তি বাজারে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় ২০ জন পিকেটার আহত হন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়। চাটখিলে ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে হরতাল সমর্থনকারী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে ছাত্রদল ও যুবদলের ১০ কর্মী আহত হন। বেলা ১টায় অবরোধ শেষপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ কর্মীরা চাটখিল বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন এবং অফিসের আসবাবপত্র বের করে আগুন দেন। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা চাটখিল মোহাম্মিয়া হোটেল, গাংচিল ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ভাঙচুর করে ও আজিজ সুপার মার্কেটে যুবদল নেতা সুলতান বাবরের জেনারেটর ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এ ছাড়া তিনটি মোটরসাইকেল একটি পিকআপে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়। মাইজদী-চৌমুহনী সড়কের রমজান বিবিতে চারটি সিএনজি, একটি পিকআপ, মাইজদী রৌশনবাণী সিনেমার দেিণ দু’টি সিএনজি, মাইজদী বাজারে দু’টি সিএনজি ভাঙচুর হয়।
ফেনী : ফেনীতে অবরোধ চলাকালে শহরের প্রধান সড়ক ট্রাংক রোডে কর্মরত দুই সাংবাদিককে প্রকাশ্যে বেদম পিটিয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় তারা ফেনী প্রেস কাব ভবন ও আশপাশের দোকানে হামলা চালান।
পুলিশ ও প্রত্যদর্শী সূত্র জানায়, বেলা ১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলে জেলা অওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বিকম, পৌরমেয়র নিজাম উদ্দিন হাজারী নেতৃত্ব দেন। প্রেস কাবের সামনে অবস্থানরত অবরোধ সমর্থকদের ওপর মিছিল থেকে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। তাদের হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা আকাশসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। কর্তব্যরত সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগ কর্মীরা। তাদের পিটুনিতে দৈনিক ফেনীর সময়ের স্টাফ রিপোর্টার আরিফ আজম ও ফটোগ্রাফার আবদুর রহিম গুরুতর আহত হন। তারা আবদুর রহিমের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন। আহত আবদুর রহিমকে ফেনী আল কেমী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীরা প্রেস কাব ভবন ও আশপাশের দোকানে ভাঙচুর চালান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কুমিল্লা-সিলেট ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ থাকায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করেনি। আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফকানির কোনো গাড়ি চলেনি। পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জন পিকেটারকে আটক করেছে।
ভোর প্রায় সাড়ে ৫টায় জেলা বিএনপি ও ১৮ দলীয় বহু নেতাকর্মী কুমিল্লা-সিলেট ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ১০টি স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি ও বিােভ শুরু করেন। বিুব্ধরা এ সময় বিভিন্ন স্থান ও রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিােভ করেন। সকালে বিএনপিসহ ১৮ দলের নেতাকর্মীরা সাবেক প্রতিমন্ত্রী জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট হারুন আল রশীদের নেতৃত্বে মিছিল বের করে সড়কে বিক্ষোভ করেন।
মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা পৃথকভাবে বিােভ মিছিল নিয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন।
এ দিকে মরহুম মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুর নেতৃত্বে পাটুরিয়া ঘাটে সকালে মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে পাটুরিয়ার লঞ্চ ঘাটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গাইবান্ধা : ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, যানবাহন ভাঙচুর, কাঠের গুঁড়ি-বৈদু্যুতিক খুঁটি-গাছ ফেলে রাস্তায় ব্যারিকেড ও পুলিশের টিয়ার শেল ও অবরোধকারীদের ইটপাটকেল নিেেপর মধ্য দিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ২৫টি যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশসহ ২০ জন আহত এবং লাভলু নামে এক পথচারীকে পুলিশ আটক করে।
সকাল ৬টায় পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল হক জুয়েলের নেতৃত্বে পৌর বিএনপি, থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহস্রাধিক নেতাকর্মী রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ী দণি বন্দর থেকে অভিরামপুর পর্যন্ত অবরোধ করেন। এ সময় তারা দণি বন্দর এলাকায় ২৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেন। সকাল ৮টায় পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে অবরোধকারীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াসহ ইটপাটকেল নিেেপর ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশসহ ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিপে করে। অপর দিকে থানা বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবিরসহ ১৮ দলের দুই হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক শহরের উত্তর প্রান্তে ব্র্যাক অফিস এলাকায় শক্ত অবস্থান নিয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও অব্যবহৃত বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে সকাল ৭টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেন। গাইবান্ধা জেলা শহরে অবশ্য শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।
নেত্রকোনা : অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে গতকাল সকালে নেত্রকোনায় বাস টার্মিনালের অদূরে সাকুয়ায় পিকেটারেরা ময়মনসিংহগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশ ছাত্র ও যুবদলের মাসুদ, মুন্না, সেলিম ও নিজামকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া কলমাকান্দা বাসস্ট্যান্ডে পিকেটারেরা কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদল নেতা সোলেমানকে গ্রেফতার করে।
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের লৌহজংয়ের মাওয়া চৌরাস্তা, চন্দ্রবাড়ী, কুমারভোগ ও সিরাজদিখানের নিমতলা, কুচিয়ামোড়া এলাকায় পুলিশ-আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষে লৌহজং থানার ওসি জাকিউর রহমানসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে তিনজনকে। অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দিলে পুলিশের সাথেও বিএনপি নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষকালে পুলিশ প্রায় ৭০ রাউন্ড টিয়ার শেল-রাবার বুলেট নিপে করে। এর মধ্যে লৌহজং উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর শিকদার, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন, সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন দোলন, জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক অবাক, লৌহজং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামাল ঢালী, বিএনপি নেতা কামাল, গোলাম গাউস সিদ্দিকী, মহিলা দল নেত্রী আয়েশা আলম নারগিস, শ্রীনগর যুবদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জেমস, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, যুবদল নেতা সোহাগ ঢালীসহ দুই দফায় অন্তত ৩০ আহত হয়েছেন মাওয়ায়। গুরুতর আহতদের শ্রীনগর, মাওয়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন কিনিকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

0 নির্যাতন থেকে শক্তি সঞ্চয় করে হরতাল পালন করা হবে: খালেদা

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: আশিক/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলমসহ নেতাকর্মীদের নির্যাতন থেকে শক্তি সঞ্চয় করে সোমবার বিক্ষোভ ও মঙ্গলবার হরতাল কর্মসূচি পালন করবে ১৮ দলীয় জোট।

অবরোধ চলাকালে রাজধানীর আমিনবাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ নাজিম উদ্দিনকে স্কয়ার হাসপাতালে দেখতে গিয়ে একথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা অবরোধে রোববার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে পেটে গুলিবিদ্ধ হন নাজিম উদ্দিন। পরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিন রাত পৌনে ১১টায় স্কয়ার হাসপাতালে আসেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন।

রাত ১১টা ১০ মিনিটে হাসপাতাল ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া।

এসময় খালেদা জিয়ার পক্ষে সাদেক হোসেন খোকা সাংবাদিকদের বলেন, “বিকেল থেকেই নাজিম উদ্দিন আলমের অবস্থা অবনতির হতে থাকে। এ পর্যন্ত তার তিনটি অপারেশন করা হয়েছে। তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই মুহূর্তে উন্নত চিকিসার জন্য তাকে বাইরে নেওয়াও সম্ভব নয়।”

খোকা জানান, “নেত্রী নাজিম উদ্দিনের চিকি‍ৎসার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। পুলিশি নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নেত্রী বলেন, নাজিম উদ্দিন আলমের নির্যাতনের মাধ্যমে আমরা আরও শক্তি সঞ্চয় করেছি এবং সেই শক্তি নিয়ে বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি পালন করবো।”

রোববারের অবরোধে দেশব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। এতে নিহত হন তিনজন। এর প্রতিবাদে সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও মঙ্গলবার হরতালের ডাক দিয়েছে ১৮ দল।

খালেদা জিয়া সরকারকে হুশিয়ার করে বলেছেন, “প্রশাসনের সহযোগিতা না থাকলে আওয়ামী লীগের টিকিও খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

স্কয়ার হাসপাতালে ড্যাব মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “নাজিম উদ্দিনের ডান পাজরে দুই ইঞ্চি ভেতরে খাদ্যনালী পর্যন্ত গুলি ঢুকেছে। এ পর্যন্ত তার আড়াই লিটারের মতো রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। এখনও দুটি গুলি ভেতরে রয়েছে। তবে তার রক্তচাপ স্বাভাবিক। তাকে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।”

চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, “২৪ ঘণ্টা না গেলে তার অবস্থা বোঝা যাবে না।”

0 বিচারপতির স্কাইপি সংলাপ : ‘ড. কামাল ক্রিমিনাল বোঝে না, আমীর উল গ্যানজাম করে ওয়ালিউর চোর’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের নানা দিক নিয়ে বেলজিয়ামে অবস্থানরত ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপি কথোপকথনে উঠে এসেছে প্রসিকিউশনের সঙ্গে কীভাবে শলাপরামর্শের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াটি চলছে। চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর স্কাইপি কথোপকথনে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম সম্পর্কে বলেন, ‘মালুম খালি লাফায় লাফায় ওঠে। না, মানে যখন ওঠে যৌক্তিক কারণ নিয়া তো ওঠে না।’ অপরদিক থেকে ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘কী সেইটা বলেন?’ জবাবে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম জানান, ‘না কোনো কারণ নাই। আমি ধমক দিয়ে বসায় দিছি। পরে আবার রুমে ডাকছি। পরে কইছে এইডাই ঠিক আছে। আমি দাঁড়াইয়া যামু, আপনি আমারে বসাইয়া দেবেন। লোকে দেখুক আমাদের মধ্যে কোনো খাতির নাই।’ এছাড়া অন্যান্য প্রসিকিউটরদের যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে দুইজনের কথোপকথনে। কথোপকথনের একপর্যায়ে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেন, কাকে আর এখানে আনা যেত। ড. কামাল হোসেন ক্রিমিনাল বোঝে না। আমির উল ইসলাম গ্যানজাম করবে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা বিলিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী ঘরানার সাবেক আমলা ওয়ালিউর রহমানকে চোর বলে আখ্যায়িত করা হয়। সুলতানা কামালের সাক্ষ্য এবং তার সঙ্গে আলোচনার বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয় সেদিনের স্কাইপি কথোপকথনে।
উল্লেখ্য, একটি বিদেশি সূত্র থেকে স্কাইপি কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য আমার দেশ-এ আসার পর এ নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। এই অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম নিয়মিত ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী বাংলাদেশী নাগরিক রায়হান রশিদের সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া ও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে নানা রাজনৈতিক আলোচনা করেন। তবে গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিচারপতিরা স্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করা থেকে বিরত থাকেন, যা গত শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ইকোনমিস্টের অনলাইন সংস্করণে উঠে এসেছে। অথচ বৃহস্পতিবার ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে রুল জারি করে এক আদেশে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটি বাংলাদেশে একটি নতুন ধারণা। এই আইন সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছেন। ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও তিনি আদেশে স্বীকার করেন। কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপতিরা কোনো মামলায় আইন বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যার প্রয়োজন মনে করলে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞদের অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগের রেওয়াজ রয়েছে। এর বাইরে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বা পক্ষভুক্ত কোনো ব্যক্তিপর্যায়ে আলোচনা বা পরামর্শ নেয়ার সুযোগ নেই। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের গত ১২ সেপ্টেম্বরের স্কাইপি আলোচনা বিস্তারিতভাবে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা হলো।
১২ সেপ্টেম্বরের কতোপকথন

নিজামুল হক নিজামুল হক নাসিম : হ্যালো...।
আহমদ আহমদ জিয়াউদ্দিন : কেমন আছেন?
নিজামুল হক নাসিম : এই তো দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে ব্যস্ত আর কি! মালুম খালি লাফায় লাফায় ওঠে। না, মানে যখন ওঠে যৌক্তিক কারণ নিয়া তো ওঠে না।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : কী সেইটা বলেন?
নিজামুল হক নাসিম : না কোনো কারণ নাই। আমি ধমক দিয়ে বসায় দিছি। পরে আবার রুমে ডাকছি। পরে কইছে এইডাই ঠিক আছে। আমি দাঁড়াইয়া যামু, আপনি আমারে বসাইয়া দিবেন। লোকে দেখুক আমাদের মধ্যে কোনো খাতির নাই, হি... হি... হি... (হাসি)।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হা... হা... হা... (হাসি)। তাইলে ঠিক আছে। উনাকে কিন্তু মানা করা হইছে যে, খামাকা দাঁড়ায়েন না, কিন্তু উনি মনে করে কিছু পয়েন্ট মেক করা দরকার। এজন্য হয়তো দাঁড়ায়। কারণ টার্গেট তো আপনি না। টার্গেট তো বাম সাইডের লোকেরা। তবু আমরা বলে দিছি।
নিজামুল হক নাসিম : হ্যায় একটু পর পর লাফাইয়া লাফাইয়া ওডে। বলে এটা আসবে না, এইসব নেয়া যাবে না।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : আমি তো দেখলাম রিপোর্ট অনুযায়ী আপনার বোধহয় একবার না করছেন যে...।
নিজামুল হক নাসিম : আমি বলছি যে, আমরাই তো যখন দেখি যে এটা ইরেলিভেন্ট, তখন এইটা নেই না। আর আমরা তো তাদের সবকিছু নিচ্ছি না। আপনার তো দাঁড়ানো লাগে না। আগে আমরা বলব যে, এটা নিচ্ছি। তারপর আপনারা বলেন যে, এটা নেয়া ঠিক হচ্ছে না। আগেই লাফায় উঠে কেন। যখন দেখে আমরা কিছু নিচ্ছি, তখন দাঁড়ায়ে বলুক, আগেই কেন?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : ওই এক্সারসাইজ করুক আর কি।
নিজামুল হক নাসিম : হা... হা... হা... (হাসি)।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : অ্যা...মানে, আমরা আলোচনা করছি, অবজেকশন যেন ইয়ে না হয়, মানে কোন অবস্থায়ই যেন স্পিডটা যেন কমে না যায় আর কি।
নিজামুল হক নাসিম : তা তো বটেই।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : তবে ওটাও ওনার স্ট্র্যাটেজিটা অই দিক থেকে ঠিক আছে। যদি দেখে যে না, ট্রাইবুন্যাল—আসলে প্রসিকিউশন চেষ্টা করতেছে কিন্তু না—পারতেছে না, তো দ্যাট কেস ইন সাম সর্ট অফ মানে ইয়ে আরকি, কনফিডেন্স, মানে যদি সেটাই উদ্দেশ্য হয় আরকি। জেরাটা কেমন গেছে ?
নিজামুল হক নাসিম : হ্যাঁ... ভালোই। জেরাতে তো সব কনফার্ম করে দিচ্ছে। এত বাজে জেরা, আল্লাহ...!!! ডিফেন্সের জেরা খুবই খারাপ হচ্ছে, জেরা হয় না।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : কিন্তু ডিফেন্সের সবচেয়ে ইমপোর্ট্যান্স মানে সবচেয়ে স্পেশালিস্টই জেরা করতেছে তো।
নিজামুল হক নাসিম : স্পেশালিস্ট বলেই তো সর্বনাশটা হয়ে যাচ্ছে।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : এদের ভেতরে মানে বেস্ট কে আর কি?
নিজামুল হক নাসিম : আমার তো মনে হয়, আইনের ই-টাই বোঝে নাই তারা।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : মানে—আইনের ফ্রেমওয়ার্কটাই বোঝে নাই তারা? আপনার অন্যান্য ব্রাদাররা কী বলে? তাদের কী ধারণা?
নিজামুল হক নাসিম : অ্যা...একই কথা বলতেছে যে, এ কি জেরা হচ্ছে! এ জেরা তো সর্বনাশ করতেছে আসামির। এই জেরা না করাই উচিত ছিল তাদের।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : এখন তারা আর কটা সেশন চাইছে? আরো দুইটা সেশন ?
নিজামুল হক নাসিম : দুই সেশন বাকি আছে। আজকে সেকেন্ড সেশনে শেষ হয় নাই। কারণ উনি প্রাইম মিনিস্টারের ওহানে গেছেন। বলছেন, এই জন্য সময় দিছি, কালকে দুই সেশনে শেষ।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : এতে কে গেছে? সুলতানা আপা?
নিজামুল হক নাসিম : হ্যাঁ, সুলতানা কামাল।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : আচ্ছা, এটা অন্য ব্যাপার। কালকে একটু আসছিল আর কি। আমাদের নিজেদেও ভেতরেও কথাবার্তা হইছে। কালকে, মহসীনা আর সঞ্জীব আসছে (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আনোয়ার হোসেনের ছেলে)। ও আচ্ছা, আপনার সেই ছেলে আসবে নাকি?
নিজামুল হক নাসিম : না আজকে আসবে না। আজকে আসতে বলি নাই।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : আচ্ছা... যাক। আমরা আলোচনা করছি এইটা নিয়ে কিন্তু, হ্যাঁ..। এই ছেলে সম্পর্কে রায়হানের (লন্ডনে অবস্থানরত রায়হান রশিদ) অ্যাসেসমেন্ট হচ্ছে যে, এই ছেলে কিন্তু চাকরি পাওয়ার আগে, জয়েন করার আগে আগে সে আমাদের সাথে বিশেষ করে রায়হানের সাথে খুবই ঘনঘন যোগাযোগ করছে এবং সে সবকিছু করছে আর কি। কিন্তু, তার পর থেকে মানে... জয়েনের পর থেকে কিন্তু, আর কোনো খবর নাই তার।
নিজামুল হক নাসিম : ঠিকই আছে। জয়েনের পরে জজ হইয়া গেছে। খবর রাখবে কেমনে?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : রিকোয়েস্ট করার পরেও, যে আপনি স্কাইপে আসেন। মানে সে প্রথমে সে জানাইছে তাকে ল্যাপটপ দেয়া হইছে। এবং ইন্টারনেট তার কিন্তু এক্সেস আছে। আমার যেটা ধারণা ছিল, কালকে আপনাকে কর্নফার্ম করতে পারি নাই। আমার ধারণা ছিল সে হয়তো বা এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটের এক্সেসটা সে ইয়ে করতে পারছে কি না।
নিজামুল হক নাসিম : ইন্টারনেট ২-৩ দিন আগে পাইছে, এবং আপনার ওইডা-ইন্টারনেট তারে অফিস দেছে। আর বাসায় আছে কিনা জানি না আমি। কিন্তু স্কাইপে তার নাই, এখন পর্যন্ত।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : আচ্ছা।
নিজামুল হক নাসিম : এখন তো সে জজ। এখন ইয়ে হইছে না? এখন তো সে জজ। আবার ইয়েতে ভর করছে না? মানে কথা বলা ঠিক হইবে কি না? উচিত কিনা আপনার সঙ্গে। এসব...।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : সে যখন যোগাযোগ করছে তখন তো সে জজই ছিল আর কি।
নিজামুল হক নাসিম : যাই হোক।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ... হ্যাঁ... এখন তো সে জজ না, বরং এখন তো সে মোর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ জবে আছে।
নিজামুল হক নাসিম : আমাদের এখানে—হ্যাঁ। যাই হোক, আজকে তার সঙ্গে আমার কোনো দেখাই হয় নাই। কারণ আমিও তো ১০টায় কোর্টে ঢুকি আর সাড়ে ৪টায় বের হই। তবে তাকে আমি, কালকে তারে আমি ডাকব।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : ওইটা হচ্ছে কী যে, ওই... রায়হানের সাজেশনটা হচ্ছে যে, আপনে সরাসরি, সে আপনে আমাদের কথাটা বলছে আপনারে। মানে সবই করছে এবং এটা রায়হান মনে করে যে, সে মানে আমাদের সাথে যে লিংকেজটা আছে, আপনার একটা ভালো শুভেচ্ছা টাইপের এবং বলতাছে যে, এই মুহূর্তে ইয়ে করছেন যে, তার সামনে আমরা আলোচনাটা প্রাথমিকভাবে না করি আর কি। আপনে তার সাথে ওয়ার্ক করেন, অ্যান্ড দেন ইউ ফিল ইট, অ্যান্ড দেন এবং আরেকটা কথা রায়হান যেটা বলছে যে, আমাদের কাছ থেকে ম্যাসেজ আপনার কাছে যে, আমাদের সাথে তার যোগাযোগ আছে কি না সেটা জানতে একটু ইয়ে কইরেন আর কি, মানে জিজ্ঞাসা কইরেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ আছে কি না, এরকম একটা প্রশ্ন কইরেন। সেটা ভালো হইবে আর কী। আর আপনি কাজ করেন। এমনে ঠিকই আছে আমাদের।
নিজামুল হক নাসিম : আচ্ছা।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : কিন্তু রায়হানের কথা হচ্ছে যে, ছেলেটা একটু ক্যারিয়ারিস্ট মনে হচ্ছে আমাদের কাছে।
নিজামুল হক নাসিম : ক্যারিয়ারিস্ট তো বটেই, কেরিয়ারিস্ট হবেই। কে না? হা... হা... হা... (হাসি)
আহমদ জিয়াউদ্দিন : ওয়েল, আমাদের হচ্ছে যে, ওই সেন্সে আমরা ইয়ে করি আর কি। আমাদের-আমরা মনে করি আর কি ক্যারিয়ার আছে। বাট এখানে ডেডিকেশনটাও থাকতে হবে আর কি। তো কমিটমেন্টটা এবং ডেডিকেশনটা আর কি।
নিজামুল হক নাসিম : আমি একটা কথা বলি—ও ওইখানে আসছে, মানে গভর্নমেন্ট বইল্যা।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ। এটা সত্যি কথা।
নিজামুল হক নাসিম : ইন্টারেস্ট দেখাইয়াই সে আসছে, তার ইন্টারেস্ট আছে। কাজেই কমিটমেন্টও আছে বইল্যা আমারও মনে হয়। আমার লগে হে কথাবার্তা বলছে, রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করছে।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : না, না। এমনে ঠিক আছে। এমনে আমরাও ঠিক আছি। যেটা সারপ্রাইজড হইল সেটা হইল যে, আপনি তো ধরেন রেসপন্স তো করবেন আপনি। হয়তো বা আপনি স্কাইপে আসতে পারতেছেন না, কিন্তু আপনাকে যখন রিকোয়েস্ট করা হয়, বা বলা হয়। আসলে আগে রীতিমত নিয়মিত আসত। এখন হঠাত্ করে আইসিটিতে জয়েনিংয়ের পর থেকে তার রেসপন্স রেটটা একটু লো হয়ে গেছে। সেটা আমাদেরকে একটু... মানে রায়হানকে বিশ্বাস করি এবং মেইন রায়হানই এগুলো কো-অর্ডিনেট করে। আর কালকে আমাদের সঞ্জীব-মহসিনার (মহসিনা হল সঞ্জীবের স্ত্রী) সাথে আমাদের ডিটেইল ডিসকাশন হয়েছে। সঞ্জীব-মহসিনাদের ইভেন আপনার যখন লাগবে বা যদি লাগে, উই এজ ইউজ্যুয়াল। যেহেতু তারা আপনারটা ইয়ে নিয়ে করে আর কি। যদি সে একদিন আগে জানে, তাহলে তখন ঢাকায় এসে ইয়েতে থাকবে আরকি। মানে গুলশানে থাকবে। তখন ইয়েতে থাকবে না। একদিন আগে থেকে ব্যবস্থা করে নিতে পারে আর কি, তাহলে।
নিজামুল হক নাসিম : আচ্ছা...।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : কারণ ওদের ওই গাড়ি একটা ব্যাপার-স্যাপার আছে। মানে সবাই যায় একসাথে। ওদের এরকম একটা ব্যাপার-ট্যাপার আছে। সো একদিন আগে জানলে তার জন্য ব্যাপারটা ইজি হয়ে যায়। অবশ্য আপনাকে তো সব সময় একদিন আগেই জানানো হয় অ্যাট লিস্ট, বা আরো আগে জানানো হয়। তো ওইটা ওভাবে চলতে থাকবে। যখন দরকার হবে—আর কালকে বোধহয় সিমন মিয়া, মানে ওস্তাদি তো আর কি।
নিজামুল হক নাসিম : হু...ম।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : মানে সুলতানা আপার সামনে সে একটু গুরুত্ব, নিজের গুরুত্বটা বোঝানোর জন্য যে, সুলতানা একটু গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। কালকে যখন তারা লাঞ্চ করেছে প্রসিকিউটরদের সঙ্গে, মালুম ভাই, অ্যা...অ্যা আইও‘র সাথে। তো সেইখানে আমরা যে জিনিসটা আলোচনা করেছিলাম, আমরা নিজেরা, নিজেরা-নিজেরা মালুম ভাইর সাথে, উনিও ছিলেন। তারেকের সাথে,.. সেদিন যে রাত ২টা পর্যন্ত বড় একটা আলোচনা হলো যে, আমাদের অ্যাপ্রোচটা কী হবে। কার পরে কে আসবে এবং কোনখানে গিয়া সাক্ষী এটা শেষ হয়ে যাবে। তারপের হচ্ছে যে মানে আমরা কোন সাক্ষীটা দিব। এই যে, এইসব যে আলোচনাটা, এইটা এবং এখানে বোধহয় সুলতানা আপার সাথে ৩ জন আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেইকা ছিল।
নিজামুল হক নাসিম : হ্যাঁ.. ওবায়েদ আর দুইটা মেয়ে। তিন কি চারজন।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ, তিন-চারজন ছিল। তারাও ছিল সেখানে। তো সেইখানে এইটা মানে উনি যখন ওনার, মানে মালুম ভাইয়ের ভাষাতে এইটা হলো আওয়ামী লীগের এ আর কি, শিক্ষা আর কি। আওয়ামী রাজনৈতিক শিক্ষা আর কি। নিজের গুরুত্বটা দেখানোর জন্য বলছে যে, আমরা এই রকম চিন্তা করতেছি যে আমরা আপনার পরে শফিউল্লাহরে ডাকবো না, এইটা করবো না... সেইটা করব না, এইসব আরকি। এরপর মালুম ভাইয়ের কথা অনুযায়ী উনি চেষ্টা-টেষ্টা করছেন... মানে ইশারা দিছে, কিন্তু উনি বলছেন, খাড়ান আমার কথা আছে। আমার কথাটা বলে নেই আর কি। এটা সুলতানা আপা খুবই রিএ্যাক্ট করেছে।
নিজামুল হক নাসিম : হ্যাঁ..হ্যাঁ...
আহমদ জিয়াউদ্দিন : যে, আমার সামনে আমাকে তো দেখানোর কিছু নাই। তারপর হচ্ছে যে আমার সাথে ছেলেমেয়েরা আছে, তারা... আমরা তাদেরকে বিশ্বাস করি। কিন্তু এইগুলা তো আমি জানতে আসি নাই যে, আপনার প্রসিকিউশনের স্ট্র্যাটেজিটা কী হবে... সেইটা কেন আমাকে, মানে আমার সামনে, আমাদের সামনে, এইরকম একটা প্রেক্ষিতে কেন বলা হলো! পরে কালকে আমি ওনাকে দু্রত ম্যাসেজ দিয়েছি আর কি। যে আপনি কালকে রাত্রেই আসেন। আর মালুম ভাইরেও নিয়া আসেন। মালুম ভাইয়ের সাথে তো আমার আগেই কথা হইয়া রইছে। মালুম আসলে আমি ওনারে বলছি যে, ই... রকম ব্যাপার। এটা তো আমরা সেদিন আলোচনা করছি স্পেসিক্যালি যে, আমরা পাঁচজন লোক ছাড়া, যারা আপনারা কোর প্রসিকিউটর তিনজন, চারজন যারা তারা, আর আমরা হইলাম দুইজন। এর বাইরে কিন্তু কেউ জানবে না। এটা কী করে, প্রথমে বলছে যে, আমরা এরকম জানছি। এ ধরনের কথাবার্তা, যেগুলো আসলে বলার কথা না। এগুলো কেন বলা হইছে আর কি। তখন উনি অলমোস্ট সেটা ইনোসেন্ট একটা প্লে করতেছে যে, এইগুলা কে করছে। তখন আমি বলছি যে, আসলে দেখেন, এগুলো আপনার নামেই আসছে। আসলে আমি দেখলাম সরাসরি না বললে এটা হবে না আর কি এবং এটা আপনি কোথায় কখন? আমি বলছি যে, এই আপনে তখন খাওয়ার সময় লাঞ্চ আওয়ারের সময়। তখন তো আর কিছু বলতে পারে না। মালুম ভাই বলতেছে যে আমিও তো ছিলাম—আমিও তো ইশারা দেয়ার চেষ্টা করছি। এরপর আমি বলছি দেখেন, আপনি খুবই পরিষ্কার করে বুঝে নেন যে, এই বড় কেস সম্পর্কে, এই যে তিন-চারজন আপনারা যারা কোর প্রসিকিউটররা আছেন, এদের বাইরে যদি থার্ড পারসনও কেউ থাকে, তখন এগুলো নিয়ে আপনারা আলোচনা করবেন না, একদম আলোচনা করবেন না। এখন এর পরে আমাদের মিটিংয়ের পরে চিফ প্রসিকিউটরসহ তারা বসছে এবং সেখানে চিফ প্রসিকিউটর একই ইস্যুতে খুবই এমফেসাইজ দিছে। বলছে যে, এটা কোনো অবস্থাতে এ...এ না হয়। মানে এই আলোচনাগুলা মানে আমাদের স্ট্র্যাটেজিক আলোচনাগুলো যেন কোনো অবস্থাতেই বাইরে না যায়। কিন্তু হয় অত গুরুত্ব বুঝে নাই, অথবা নিজের গুরুত্বটা জাহির করতে চায়, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সামনে, সুলতানা কামালের মতো একটা মানুষের সামনে যে... আমি যে কী, মানে এইটা কালকে আমরা এইটা বেশ কিছু এগিয়েছি আর কি। যে দেখেন এই ব্যাপারটাতে যেহেতু আমরা সাম হাউ জড়িত আছি। আপনাদের স্ট্র্যাটেজিক ডিসকাশনটা শুধুমাত্র যারা ইভেন আপনারা যারা আলোচনা করতেছেন না, অন্য প্রসিকিউটরদের সাথে, সেইখানে আপনার যখন বাইরের লোকেরা আছে, সুলতানা আপা আছে বুঝলাম, কিন্তু সুলতানা আপারও তো জানার কথা না। সুলতানা আপা তো ওইটাই বলছে আর কি। যে এটা তো আমারও জানা উচিত না। তয় আপনারা কী করতেছেন, না করতেছেন এবং সেটা এইখানে আবার আমার ছেলেমেয়েরা রইছে। ওনি বলছে, তাদেরকে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু তারপরেও তো। এইটা এই জিনিসগুলো এখন তো আমরা ওনার সামনে, ওনাকে তো আমরা অল মোস্ট মানে স্ট্র্যাটেজিক আলোচনাগুলা, এর পরে তো আরো কো-র আলোচনা হবে আরকি। যেগুলো আসলে রিয়েলি আমরা কোন কোন পয়েন্টে আগ্যু করব, কোন কোন পয়েন্টে আগ্যু আসবে, কীভাবে এটাকে কনস্ট্রাক্ট করা হবে—এসব আলোচনা তো তখন মানে ডিফিকাল্ট হইয়া যাবে। সো এখন আমরা যেটা আমরা ঠিক করছি যে, আমরা মোটামুটি আবার সেই ওল্ড গ্রুপ, মানে আবার ৪ জনের গ্রুপ, আবার রিঅ্যাক্টিভেট হবে। মানে হইয়া গেছে আরকি। ভালোই হইছে। আবার সবাই ফর্মে চলে আসছে। যে যতটুকুন পারে ম্যাক্সিমাম সময় দিবে। মোহসিনা হচ্ছে... বিলিয়াতে শুরু করছে।
নিজামুল হক নাসিম : আচ্ছা, ভালো হইছে।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : বিলিয়াতে তো নাকি... ডিরেক্টর—আমি এটা জানতাম না, অলিউর রহমানকে বহিষ্কার করে দিয়েছে? এটা কি জানতেন আপনে...?
নিজামুল হক নাসিম : কই? না তো!
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ, অলিউর রহমান নাকি বহুদিন আগে বহিষ্কৃত।
নিজামুল হক নাসিম : তা তো জানি না! এখন কে?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : এখন অ্যাক্টিং ডিরেক্টর শাহদীন (সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক), এখন ওনাকে কনফার্ম করছে আর কি। আমি তো জানতামই না, যে... অলিউর রহমানের বোধহয় একটু ফাইন্যান্সিয়াল ইয়ে হইছে আরকি...
নিজামুল হক নাসিম : হ্যাঁ... সে তো চোর।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হা... হা... হা... (হাসি)। এখানে কিছু ফাইন্যান্সিয়াল ইরেগুলারিটির ব্যাপার-স্যাপার আছে আরকি। সো, হি ওয়াজ টোল্ড টু গো। মানে যানগা। এইটা হচ্ছে... এটা আমি জানতাম না কিন্তু। এখন সে ওইখানে জয়েন্ট ক্রিমিনাল এক্সপার্ট। তার উপর রিসার্চ করতে বলছে। অ্যাজ এ রিসার্চার তাকে দুইটা পেপার করতে হবে, কী করতে হবে না করতে হবে। তার প্লেন্টি অব সময় আছে ওইখানে। কাজেই মহসিনা মানে দিনের বেলাতেও প্রচুর কাজ করতে পারবে। তারপরে সঞ্জীবের এবারে ক্লাসটা খুব ভালো দিয়েছে। প্রথম ইয়ারে তাকে হাবিজাবি কোর্স দিছিলো, যেগুলাতে আসলে বেশি পড়ালেখা করতে হইত। এবারে তারে ক্রিমিনোলজি দিয়েছে এবং ইন্টারন্যাশনাল ল দিছে। এটা রিয়েলি তার জন্য বেশি ওয়ার্ক করা লাগবে না আর কি।
নিজামুল হক নাসিম : স্ট্যামফোরডে ?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ, স্ট্যামফোরডে। ক্রিমিনোলজি, ক্রিমিনোলজি তো তার একেবারে পেট সাবজেক্ট। আর ইন্টারন্যাশনাল ল তার যথেষ্ট পরিচিত সাবজেক্ট। তো এটার জন্য তাকে বেশি একটা ঘাঁটাঘাঁটি করা লাগবে না। বেশি পরিশ্রম করতে হবে না। কাজেই তারা দুইজনেই আবার মানে...ব্যাক টু ফর্মে আসছে।
নিজামুল হক নাসিম : ওরা সাভারের থেকে কেমনে এই ই কাজ করবে, কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : আচ্ছা। যে ডিসট্যান্স সাভার থেকে ঢাকার যে আপনাদের এই এলাকাতে, মানে সাভার থেকে এইখানে আসা... ঢাকার এই মোড়া থেকে ওই মোড়াতে যাওয়া নাকি বেশি তফাত না। ওইখানেও দেড় ঘণ্টা লাগে। তারা যখন সকালে আসে। তাতে তখন দেড় ঘণ্টা লাগে।
নিজামুল হক নাসিম : হু...ম...
আহমদ জিয়াউদ্দিন : কাজেই খুব একটা বেশি ইয়ে হয় না আর কি। আর তারা যখন উইক এন্ডে এইখানে থাকে। আর যখন দরকার পড়বে, বলতেছে যে, যখনই আমাদের রাত্রে দরকার পড়বে, বিশেষ কইর্যা, সেটা তখন এক রাত আগে জানালে, তখন আমরা ওই রাতেও থাকবো আরকি। গুলশানে থাকবো। সো, ওইটা খুব একটা অসুবিধা হবে না। ওইটা ওদের... ওরা প্রত্যেকেই আসতেছে ওদের গাড়ি নিয়ে সকালে চইল্যা আসে। গাড়ির দুইজন দুই দিকে, একেক জনকে একেক জায়গায় নামায়, তারপর আবার কো-অর্ডিনেট করে তারা। কাজেই ওইটা অসুবিধা না তখন। কাজেই তারা কমিটেড ছেলেমেয়ে। এখন যেটা মালুম ভাই চাইছে, ওইটা বলছি আজকের ভিতরে খুঁজে বের করতে। সেইটা হচ্ছে যে, ওই দুই-তিনটা বোধ হয়, ডকুমেন্ট আমরা অ্যাড করেছিলাম—সেই ডকুমেন্টগুলা...ওনাদের হাতে দিয়ে দিতে আর ক। আছে... আমরা বোধ হয় এটা এক্সট্রা ওই ওয়াশিংটন পোস্টের একটা লেখা ছিল, সেটা অ্যাড করা হইছে। সেটা, আর দুইটা জিনিস আছে ছোট ছোট। এইটা ওনাদেরকে দিয়ে দেয়া, ওনাদেরকে বোঝানোর কাজটা করা। কাজেই এইটা করবে। তারা যতটুকু সম্ভব ততটুকু তারা ইয়ে করবে। আ...র রাতে যদি থাকতে হয়, মানে বেশি রাত্রে যদি প্রয়োজন পড়ে, মানে আপনার কাছে যদি ফিজিক্যালি যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে রাত্রে, সেটা আগে জানলে সে ইয়ে করে ফেলবে। সে বলছে যে, আমরা তখন গুলশানে থাকবো আরকি। সো, ওইটা কোনো সমস্যা হবে না। ওইটা আমাদের মিটিংটা, মানে গ্রুপটাকে আবার চাঙ্গা করা গেছে আরকি।
নিজামুল হক নাসিম : হ্যাঁ..হ্যাঁ... (হাসি) ।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : মানে এটা দরকার ছিল। মানে যে খোঁজাখুঁজির কাজটা অনেক সময়, ছোট একটা লেখার কাজটা, হু.., এগুলা আমাদের কয়েকজন নতুন ছেলে আসছে... তাদেরকে তো আমরা কাউরে তো আসলে, আমাদের যে প্রিন্সিপল, যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু যদি তাদেরকে জানানো হয়, অথবা কাউকে বলা হল যে এটার উপর ছোট্ট একটা, ইয়ে লেখ আর কি। এর চাইতে তো বেশি আর সে জানতেছে না যে কী হচ্ছে। ত এগুলা...। রায়হান অবশ্য এ মাসে ফ্রি হয়ে যাবে হোপফুলি। ওইগুলাও কো-অর্ডিনেট করার জন্য সঞ্জীবরা হইছে বেস্ট পার্সন। মানে সঞ্জীবদের পার্সপেক্টিভটা থাকার ফলে হচ্ছে কী যে, আমাদের কী প্রয়োজন আছে... আর খুব সার্ফ ছেলে তো এগুলা। এগুলাতে কোনো অসুবিধা না। তো... ওই সেন্সে রিলিফ যে, মোর অর লেস আমরা এখন লিগ্যাল কর্মীদের টিমটা আবার, মানে ব্যাক টু ফর্মে চলে আসছে। আর মালুম ভাইকে কিছু সাপোর্ট আমাদের দিতেই হবে। কারণ ওনারা রিয়েলি এই ডকুমেন্ট-টকুমেন্ট নিয়ে বেকায়দায় আছে। আর প্লাস হইল যে, এই যে সিমন-টিমন (প্রসিকিউশনের সদস্য) এরা আসলে এফিশিয়েন্ট না। এরা কিন্তু ঝামেলা করার ব্যাপারে খুবই এফিশিয়েন্ট আবার। আর মালুম ভাই কিন্তু বারবার বলতেছে যে, আমাদের সাথে যখন, মানে ওনার গল্পের ষোলোতে আমাদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার যে আছে তার সাথে, তার এলাকার বোধ হয়, একই এলাকার মানুষ।
নিজামুল হক নাসিম : মানে গণ্ডগোল?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : সেইখানে আসলে তার কী গণ্ডগোল। সেখানে বোধহয় সে বেশি পপুলার। সে... তার টেলিভিশনে বেশি চেহারা আসে, এ নিয়ে কী মাথা গরম। এখন আমি ওই লোকরে তো আমরা চিনি কোত্থেকে, ওই লোক তখন আমিনুল হকের সাথে, তখন তার ইয়ে করত যখন।
নিজামুল হক নাসিম : সে আগরতলা মামলার আসামি...।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হু...ম... তো মানে আমিনুল হকের চেম্বারে তো তার, মানে পার্মানেন্ট আনাগুনা ছিল।
নিজামুল হক নাসিম : হ্যাঁ...।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : সেইখান থেইকা আমরা তারে হইল চিনি আর কি। এবং মানে ভালো বেটার দেন আওয়ামী লীগার সে। উনি কেন যে তাঁর সাথে ওনার গণ্ডগোল আসলে উনি কী তাকে থ্রেট মনে করে কি না, যেটা সিমন ভাই মনে করে যে, সে নাকি তাঁকে থ্রেট মনে করে এলাকার জন্য। অ্যা.. এসব কথাবার্তা হইল ওনার আর কি। উনি ঠিক প্রসিকিউশন নিয়ে বেশি ইন্টারেস্টেড না। যেটা হল উনি যে চেষ্টা করবে যে, এর পরে সেটা তো পরিষ্কারই বোঝা যাচ্ছে যে, উনি... নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করবে। এইখানে চেষ্টা করছিল ওই যে, ইলেক্টেড বা সিলেক্টেড ইয়ে হওয়ার জন্য। মানে ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য।
নিজামুল হক নাসিম : হুম...।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : কিন্তু সেটা হলো না। এটা হচ্ছে ওনার ইয়ে আরকি। বরং ওনার ছেলেটা হচ্ছে বেটার, মানে অনেক বেটার। শুধু শুধু কিছু লোক, এমন লোক দিল আর কি। শুধু প্রসিকিউশনটা যদি এফিশিয়েন্ট লোকদের হাতে পড়ত না... তাহলে কিন্তু ইমেজটা একটু অন্য রকম হয়ে যাইত।
নিজামুল হক নাসিম : এফিশিয়েন্ট কী, আমার কথা এই এফিশিয়েন্ট কারা? সেটা বুঝি না কিছু। বাংলাদেশে এই আইনের উপর এফিশিয়েন্ট লোক পাব কই—এই আমরা? আমীরুল ইসলামের আনলে হ্যায় তো গ্যাঞ্জাম করবে। আর ড. কামাল হোসেন হ্যায় ক্রিমিনাল বোঝে না। এখন আনবেন কারে, লোক কই?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : না... এটা বলতেছি না আমি। এফিশিয়েন্ট মানে হচ্ছে যে, যেমন ধরেন কী যে... কেউই তো আমরা জানতাম না এই আইনটা। কিন্তু আপনি দেখেন যে, একেক জন একেক রকমভাবে পিক আপ করছে। ঠিক আছে? এবং এটার ব্যাপারে পুরো নজর দেয়াটাকে আমি এফিশিয়েন্ট বলতে চাচ্ছি। যে, আপনি ফুললি কনসেনটেড করতেছেন, জানার চেষ্টা করছেন, আপনে বোঝার চেষ্টা করছেন এবং সবচেয়ে ইমপোর্টেন্ট হচ্ছে যেটা, সেটা হচ্ছে যে, আপনার ফান্ডামেন্টালটা যদি ঠিক থাকে, বেইসিক আপনার কনসেফট যদি ঠিক থাকে, ইন আদার ওয়াইজ ইফ ইউ আর এ গুড লইয়ার, রিজনেবলি গুড লইয়ার, এটা কিন্তু হেলপ করে। এবং ওই ডেডিকেশনটা থাকতে হবে। ওনাদেরকে বেশিরভাগই প্রসিকিউটররা আসলে, গুড লইয়ারের সংজ্ঞায় পড়ে কি না, মানে যে যে এরিয়াতে কাজ করে। তার ক্রিমিনাল ল’তেই কাজ করুক, কোনো অসুবিধা নাই। বাট ক্রিমিনাল ল’তে তারা গুড লইয়ারের মধ্যে আসে? সংজ্ঞার ভেতরে পড়ে? এখানে হচ্ছে, আমাদের সমস্যাটা হচ্ছে। ওই সেন্সে আমি বলছি, যদি এফিশিয়েন্ট গুড লইয়ার থাকত। তারপরে আপনার শিখাটা তো শিখতেই হচ্ছে কন্টিনিউয়াসলি। আপনি পিক করবেন আসলে। খুবই কুইকলি পিক করতে পারবেন, শুধুমাত্র আপনার ওই ইচ্ছাটা থাকলে আর কি। বোঝার চেষ্টা করাটা, মানে চেষ্টা করে যদি আরকি। ওনাদের তো হচ্ছে যেহেতু নিজেরাই খুব বেশি গুড লইয়ার না, মানে খুব বেশি না, আসলে গুড লইয়ারই না, মানে লইয়ারের ভেতরেই পড়ে না। এবং এই যে জানার ব্যাপারে যে একটা উত্সাহ যেটা, সেটাও নাই। ডেডিকেশনটাও নাই। যে ফুল টাইম করতেছি আরকি। আর প্রত্যেকের যে ক্যামেরা। সো, এই সবকিছু মিলে-টিলে অন্য ক্যারিয়ার, মানে ক্যারিয়ার খারাপ না। কিন্তু প্রসিকিউশনে হলো যে, একটা মহা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটা যে... দায়িত্ব নিছে আরকি বা দায়িত্ব পড়ছে আমার উপরে। ওই সিরিয়াসনেসটা যদি থাকে আরকি, বা ওজনটা যদি বোঝে, আমি কিন্তু খুবই ফরচুনেট যে, আমি বাংলাদেশের ইতিহাসে আমি একটা অংশ হয়ে যাচ্ছি। অ্যাজ এ প্রসিকিউটর অব দ্য আইসিটি। যে আমাকে একটা হচ্ছে ‘সেভেনটি ওয়ানের’ ভিকটিমদের, একট হচ্ছে হোল প্রসেসটা, নতুন একটা জিনিস, এ ব্যাপারেও তো আমার জানার ইচ্ছা থাকতে হবে। এই জিনিসগুলা আসলে সবগুলো মিল্যাই কিন্তু আসলে একটা ভালো, ইভেন সে আগে কোনোদিনই ইন্টারন্যাশনাল ল’ পড়ে নাই, ডাজ নট ম্যাটার আসলে। কিন্তু সে যদি বেসিক ক্রিমিনাল ল’টাও পড়ে, তারপরে এতদিনে যদি তাকে এই যে নোশনটা, যেটা বোঝে যায় যদি আর কি। এটা খুব ডিফিকাল্ট। প্রত্যেকেরই জন্য যেটা আপনাদের অনেকেরই ওরিয়েন্টেশন হচ্ছে যে... ক্রিমিনাল ল’য়ের ওরিয়েন্টেশন থেকে যারা আসতেছে। কিন্তু ওনারা তো আসলে প্রাইভেট লাইফেও কিন্তু ওনারা কোনো সিরিয়াস কেইস করে নাই কখনো। মানে আপনে যখন, ওনি তো নিজেই স্বীকার করে আরকি। মানে সবাই লইয়ার হইছে। কিন্তু, লইয়ার কিন্তু ওই লইয়ারই আরকি। এখানে খুব সিরিয়াসলি কেইস করছে, বড় ক্রিমিনাল ল’ কেইস করছে, অথবা গুরুত্বপূর্ণ ক্রিমিনাল কেইস করছে, ইরকম মানুষের পরিমাণ খুবই কম আছে। আবার দুই-একটা যেটা ওই দিকে যেগুলা আছে, সেগুলাও কিন্তু দে আর নট রিয়েলি, মানে ডেডিকেটেড আরকি। এদের এক্সপেরিয়েন্সটা নাই, আর ডেডিকেশনটা না থাকে, ডেডিকেশনটা থাকলে কিন্তু এক্সপেরিয়েন্স-টেক্সপেরিয়েন্স সবই হয়ে যায়। এবং ওই তিন বছরে এদের অনেক এক্সপেরিয়েন্স হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আজকে, এখন পর্যন্ত ধরেন—আমি আপনাকে বলতেছি উদাহরণটা, এই ইয়ে গেছে যে, লন্ডনে গেছে যে দুইজন প্রসিকিউটর...
নিজামুল হক নাসিম : হু বাদল গেছে...
আহমদ জিয়াউদ্দিন : হ্যাঁ, বাদল মিয়া রিকোয়েস্ট কইর্যা পাঠাইছে, আমরা যেন ব্রিফ কইর্যা দেই হোল প্রসেসটা। বুঝছেন...?
নিজামুল হক নাসিম : হা... হা... হা...!
আহমদ জিয়াউদ্দিন : মানে এই টোটালি তাদের এ সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই। এইটা হচ্ছে সমস্যা। কেই করতেছে, এই ভাগ-বাটোয়ারা দিয়ে দেওয়াতে এখন তারা কেস করতেছে। এজন্যই তো আমি আসলে আপনাদের এই ট্রাইব্যুনালের যে, এক নম্বার ট্রাইব্যুনালের ব্যাপারে হইল আর কি আমার ভেরি ভেরি ইন্টারেস্ট। আর ওইখানে যে ওরা কী করতেছে। অ্যা... আমরা কোনো খবরও রাখি না, সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ বেশি, ওইটার তো আমরা কোনো খবরও রাখি না। আর সেই স্কোপও নাই আমাদের। আর আমরা বুঝতে পারতেছি না। একেক জন একেক রকম লিমিটেশন-ওয়ালা লোকদেরকে দেয়া হইছে আর কি। বাট এনিওয়ে। তারপরও যেভাবে প্রসেসটা আগাচ্ছে সেটা। আমাদের ফাইনাল কথা হইল সেটাই অলওয়েজ। যে প্রসেসটা এটা ডেসপাইট এভরিথিং, উই আর ভেরি হ্যাপি। রায়হানরা একটু, মানে সেদিনও রায়হানরে বলছি, কালকে না পড়শু দিন বললাম আরকি। দেখেন আমরা তো, আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি, আমি অন্য কারো কথা জানি না, যেটা আমি নিজে জানি, এত বছর ধইর্যা সেভেনটি ওয়ান নিয়ে চিন্তা করি আমরা। বিভিন্নভাবে ডিরেক্টলি, ইনডিরেক্টলি কাজ করছি আমরা, প্রচুর কাজ করছি ডিরেক্টলি। আমার কিন্তু কখনই বিশ্বাস করি নাই নাই যে, বাংলাদেশে বিচার হবে একদিন। আমরা কিন্তু এইটা অল মোস্ট দাবি হিসাবেই সব সময় থাকবে এবং আমরা ক্যাম্পেইন করেই যাব আরকি। দ্যাট ওয়াজ অ্যাট বেস্ট আমাদের ই...টা ছিল আরকি, মানে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। আমার মনে হয় না যে কেউ-ই বিশ্বাস করবে যে, আমরা জানতাম যে, বিচার হবে একদিন। এত বছর ধরে কোনো খবর নাই আরকি। তো ফ্যাক্টস্্ যে এখানে বিচার শুরু হয়েছে। এটা তো একটা বিরাট ব্যাপার। বিরাট একটা ব্যাপার, ট্রিমেন্ডাসলি হিস্টোরিক সিগনিফিক্যান্ট। ও আচ্ছা, আপনাদের ইটা নিয়ে কালকে একটা ডিসকাসন হইছে। যে, এক নম্বর কেইস নিয়া আমরা, মানে আপনারা তো কোনো কথা আরকি বলতে পারেন নাই। এই একটা সুযোগ আছে, একটা কেইসের মাধ্যমে, ইয়ে... মানি যত রকম ইস্যু আছে সব ইস্যু কিন্তু আপনারা ইডার ভিতরে অ্যাড্রেস করে দিতে পারবেন।
নিজামুল হক নাসিম : হুম...।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : এটা ইতিহাসটাকে একেবারে, মানে ডেফিনিটলি হিস্ট্রিটা। তারপর হচ্ছে যে প্রসেসটা এবং প্রসেসের আগের প্রসেসটা, তারপর হচ্ছে যে প্রসেসের ইভ্যালুশনটা, খুবই সিগনিফিক্যান্টলি অ্যা... এটা আমরা পরে আরো আলোচনা করব। বাট খুবই সিগনিফিক্যান্টলি জাজমেন্টটা আপনারা এই কেইস রিল্যাটেডই কিন্তু, ট্রাইব্যুনাল যে সিগনিফিক্যান্ট ডিসিশন নিয়েছে, অর্ডার দিয়েছে যেগুলো এবং ট্রাইব্যুনালের অ্যাপ্রোচটা কী ছিল। ট্রাইব্যুনালের অ্যাপ্রোচটা হচ্ছে রোল আপহোল্ড করা, ল’ আপহোল্ড করা, অ্যাট সেইম টাইম ল’টাকে একেবারে রিজেনেবল ওয়েতে, লজিক্যাল ওয়েতে, ন্যাশনাল ওয়েতে, হিউম্যান ওয়েতে যে ইন্টারপ্রেট করা, এই যে, যতগুলা নেগেটিভ ক্রিটিসিজম হইছে, এগুলাকে, ক্রিটিসিজমগুলাকে আমরা, ওইভাবে, মানে ক্রিটিসিজম না লেইখ্যা, ওইটাকে উত্তরটা দিয়ে দেয়া আরকি। মানে ওইটাতে দিয়ে দেয়া হবে উত্তরটা, মানে আসলে এই ট্রাইব্যুনালটা কী ছিল আর কি। একটা, সলিড একটা, মানে ডেফিনিটলি ইন্টারপ্রিটেশন অব ইভ্যাল্যুশন অব দি কেইস এবং ই... রিলেটেড যা কিছু আছে আরকি, মানি হিস্টোরিকাল, লিগ্যাল, পলিটিক্যাল, মানে সবকিছু আসবে আরকি, মানে ব্যাকগ্রাউন্ড লেখাতে। যেমন—কেন নেয়া হয়েছে, কেন নেয়া হয়নি আরকি। মানি কোনটা, নেয়া হচ্ছে যেটা কেন নেয়া হলো, আর যেটা নেয়া হয়নি, সেটা কেন নেয়া হলো না। ফলে হচ্ছে যে, ইটা অপরচ্যুনিটি যেহেতু ট্রাইব্যুনাল কখনো কথা বলতে পারে নাই, নিজেদের কথাটা নিজেরা কখনো বলতে পারে নাই, এই কেসের মাধ্যমে এবং জাজমেন্টের মাধ্যমেই আসলে ট্রাইব্যুনাল তার কথা বইল্যা দিবে এবং যেইটা আমরা চাই, শুধুমাত্র, মানে কনক্লুশনটায়ও যেন এটা একটা ঐতিহাসিক ডকুমেন্ট হয়ে থাকে যেন আর কি। এই ডকুমেন্টটা বহু, মানে বহু গবেষণা করতে হবে এর উপরে। উই আন্ডারস্ট্যান্ড যে ইটা সিগনিফিক্যান্স আরকি। সো, এই ধরনের একটা চিন্তা আমরা করতেছি আরকি। যে, এই ধরনের একটা কিছু করতে হবে। মানে ইটা এত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটা অপরচ্যুনেটি। যে আমাদের জন্য একটা হিউজ অপরচ্যুনেটি। শরীরটা ঠিক আছে?
নিজামুল হক নাসিম : আছি, ভালোই ইনশাল্লাহ ঠিক আছে, আপনার শরীরের কী খবর?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : আমার তো কালকে হলো ১৩ তারিখে যাবে একটা। এই বাতের জন্য। আমার মনে হয় বাত-টাত হইছে রে, ভাই।
নিজামুল হক নাসিম : হুম... হুম...
আহমদ জিয়াউদ্দিন : কিসের জন্য হয়, সেটাও বুঝি না। দেখাও যায় না কিন্তু, কিন্তু আবার ব্যথাও করে। পাঠাইছে আমারে এক ডাক্তারের কাছে। কালকে যাব বাতের, মানে বাত সাহেবের কাছে, আর ১৮ তারিখে হলো ইয়েটা... রিপোর্টটা পাওয়া যাবে।
নিজামুল হক নাসিম : আল্লাহু... আল্লাহ...
আহমদ জিয়াউদ্দিন : আপনি তো ঝগড়ার...
নিজামুল হক নাসিম : কী?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : বলতেছি ঝগড়ার মাঝখানে থাকেন। আজকে তাহলে সাঈদীরটা হয় নাই, ফুল মুজাহিদ হইছে?
নিজামুল হক নাসিম : না, সাঈদী হইছে বিকালে। আজকে হাফ হইছে। কালকে চলবে হোল ডে এইডাই।
আহমদ জিয়াউদ্দিন : আজকে তো সাংবাদিকরে ঝাড়ি দিলেন?
নিজামুল হক নাসিম : কী...?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : নয়া দিগন্তের রিপোর্ট বোধ হয় ঠিক হয়নি।
নিজামুল হক নাসিম : কী লেখছে...?
আহমদ জিয়াউদ্দিন : সেটার জন্য আপনারা কি কিছু বলছিলেন নাকি, নাকি কোনো ওয়ার্নিং দিছেন, সেটা কী?
নিজামুল হক নাসিম : না আমরা তো না, এডা ওই ট্রাইব্যুনাল দেছে। (একটু কাশি)
আহমদ জিয়াউদ্দিন : তো ঠিকাছে তাহলে...
নিজামুল হক নাসিম : আচ্ছা, ঠিক আছে।
oliullahnoman@yahoo.com

0 ছাত্রদলের নতুন সভাপতি জুয়েল সম্পাদক হাবিব : ঢাবি, জবি, ঢাকা মহানগর উত্তর-দঙ্গিণেও নতুন কমিটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও পর্যালোচনা শেষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে সভাপতি ও হাবিবুর রশিদ হাবিবকে সাধারণ সম্পাদক করে সোমবার রাত সোয়া ৩টায় পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। অন্য পদে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, যুগ্ম সম্পাদক এসএম ওবায়দুল হক নাসির ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব আহসান। অনুমোদনের কাগজে ২০১ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও বাকিদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ ৫টি পদে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচিতে ত্যাগ স্বীকার করা অভিজ্ঞ কয়েক নেতার বাদ পড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে গতকাল বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটির খবরে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহড়া দিয়েছে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রবেশদ্বারে দিনভর ছিল পুলিশি প্রহরা। পুরো ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সোমবার রাত ২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাসায় গিয়ে কমিটি অনুমোদন করানো হয়। রাত সোয়া ৩টার দিকে চেয়ারপার্সনের গুলশানের কার্যালয় থেকে অনুমোদিত কমিটি ই-মেইল বার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সোমবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের বিদায়ী সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন।
১৯৭৯ সালে গঠিত এই ছাত্র সংগঠনের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালের ১ জুলাই। তাতে সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও আমিরুল ইসলাম খান আলিম। পরে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি ঢাবি, জবি এবং মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি অনুমোদন করা হয়। ছাত্রদলের নতুন সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল এবং যুগ্ম সম্পাদক এসএম ওবায়দুল হক নাসির এ চারটি কমিটি অনুমোদন করেন। নতুন সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব চিকিত্সার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি : মাইদুল ইসলাম হিরুকে সভাপতি, মাসুদ খান পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক, সাদিউল কবির নীরবকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, নাসির উদ্দিন রুম্মনকে যুগ্ম সম্পাদক, মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি : ফয়সাল আহমেদ সজলকে সভাপতি, ওমর ফারুক মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক, রাজীব রহমানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, খন্দকার আল আশরাফ মামুনকে যুগ্ম সম্পাদক ও এসএম মহসীন হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা মহানগরের উত্তর-দক্ষিণ কমিটি : ইসহাক সরকারকে সভাপতি, খন্দকার এনামুল হককে সাধারণ সম্পাদক, মির্জা আসলাম আলীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, জহির উদ্দিন তুহিনকে যুগ্ম সম্পাদক ও কামরুজ্জামান টিপুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল এবং আবুল মনসুর খান দীপককে সভাপতি, হুমায়ুন কবির রওশনকে সাধারণ সম্পাদক, শরিফ উদ্দিন জুয়েলকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, কামাল হোসেন (ঢাকা কলেজ) যুগ্ম সম্পাদক ও মিজানুর রহমান রাজকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটি নিয়ে যত পর্যালোচনা : বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নিজে দায়িত্ব নিয়ে এবার ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করেছেন। রমজানের প্রথম সপ্তাহে তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের নিয়ে ক’দফা বৈঠক ও পরে খোঁজ-খবর নিয়ে নতুন কমিটি করেন। তবে একটি পক্ষের অভিযোগ, ঢাকা মহানগরকেন্দ্রিক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা ও চেয়ারপার্সনের একজন উপদেষ্টা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বিদায়ী আহ্বায়ক আবদুল মতিন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হালিম খোকন ও আহসান উদ্দিন খান শিপন, ঢাবি শাখার সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুসহ ক’জন নেতা বাদ পড়ায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ। ঢাবি ক্যাম্পাসে নতুন নেতৃত্ব কোনো অবস্থান তৈরি করতে পারবে কিনা—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের কোনো কোনো শিক্ষক।
নতুন সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ছাত্রদলের বিদায়ী কমিটিতে কোনো পদে ছিলেন না। এর আগের কমিটিতে (হেলাল-বাবু কমিটি) তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তারও আগের কমিটিতে (লাল্টু-হেলাল) কমিটিতে তিনি সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আর নতুন সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগের (হেলাল-বাবু কমিটি) কমিটিতে তিনি মহানগর দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রদলের কোনো কোনো নেতাকর্মী মনে করেন, সংগঠন পরিচালনায় ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে জুয়েলের ঘনিষ্ঠরা স্থান পাননি। বরং সেখানে বিদায়ী সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঢাবি শাখার নতুন সভাপতি মাইদুল ইসলাম হিরু কেন্দ্রীয় কমিটির বিদায়ী সভাপতি ও নতুন যুগ্ম সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ সহচর। হিরুর সঙ্গে জুয়েলের ব্যক্তিগত পরিচয়ের পর্বটাও তেমন কাছাকাছি নয়। অন্য কাউকে আস্থায় নিয়ে কাজ করতেও জুয়েলের অনেক বেশি সময় নিতে হবে।
একইভাবে মহানগর উত্তর-দক্ষিণে ঘোষিত নতুন কমিটির নেতাদের সঙ্গে হাবিবুর রশিদ হাবিবের সম্পর্কের অনেক ঘাটতি রয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিদায়ী সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম ও সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল। নতুন নেতৃত্বের সফলতা কামনার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মির সরফত আলী সপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, জিয়া পরিষদ সভাপতি কবির মুরাদ, জিয়া ব্রিগেড সভাপতি জাহিদ ইকবাল ও মহাসচিব আলহাজ আবুল হোসেন প্রমুখ।
এদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। টঙ্গীতে গতকাল আনন্দ মিছিল করেছে টঙ্গী থানা ও টঙ্গী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদল। দুপুরে এক আনন্দ মিছিল কলেজ গেট এলাকা থেকে শুরু হয়ে টঙ্গীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাদেরিয়া গেটে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। টঙ্গী থানা ছাত্রদল সভাপতি কামরুজ্জামান বিপ্লবের সভাপতিত্বে ও টঙ্গী সরকারি কলেজ শাখার জিএস জিয়াউল হাসান স্বপনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি মো. শরাফত হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন শহিদুল ইসলাম শহিদ, মামুন সরকার, রফিকুল ইসলাম রিপন, লিটন মৃধা প্রমুখ।
নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা : জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবকে ছাত্রদল বিভিন্ন ইউনিটের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। গতকাল নয়াপল্টনে নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা শেষে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরিচিতি সভা পরিচালনা করেন বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সদ্যবিদায়ী সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চীেধুরী এ্যানী এমপি।

0 দাখিলে বাংলা-ইংরেজিতে ২০০ নম্বর করে পরীক্ষা


মাধ্যমিকের মতো দাখিলেও বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ২০০ নম্বর করে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। আজ বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
পরে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এর আগে বাংলা ও ইংরেজিতে ১০০ নম্বর করে মোট ২০০ নম্বরের ওপর পরীক্ষা দিত। অথচ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয় ২০০ করে মোট ৪০০ নম্বরের ওপর। এখন দাখিল পর্যায়েও এ দুটি বিষয়ে সমতা এল। এর মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা দূর হলো। শিক্ষানীতি অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কাজটিও এর মাধ্যমে শুরু হলো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে আলিম (এইচএসসি) পর্যায়েও বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষায় নম্বরে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে সমতা আনা হবে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মোট ১৩০০ নম্বরের পরীক্ষা দেবে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে ১১০০ নম্বরে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের ওপর পড়ে আসা বাধ্যতামূলক। এ কারণে প্রতি বছরই জটিলতায় পড়ে মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা।
 

BANGLADESHI UPDATE NEWS Copyright © 2011 - |- Template created by O Pregador - |- Powered by Blogger Templates