Showing posts with label bd news. Show all posts
Showing posts with label bd news. Show all posts

0 অবরোধে সরকারদলীয় ক্যাডারদের হাতে ২ জনসহ নিহত ৩ : বিরোধী সমর্থক সন্দেহে বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করল ছাত্রলীগ

বিরোধী জোটের ডাকে গতকাল রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছে। বিরোধী সমর্থক সন্দেহে রাজধানীর পুরান ঢাকায় শত শত মানুষের সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বিশ্বজিত দাস নামের এক যুবককে। স্থানীয় দোকান কর্মী বিশ্বজিতকে বিএনপি তাদের কর্মী দাবি করলেও তার সংখ্যালঘু পরিবার জানিয়েছে কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। কোনো রকম মিছিল-পিকেটিংয়ে অংশগ্রহণ না করেও কেবল ছাত্রলীগের মিছিলের সামনে পড়ে পথচারী বিশ্বজিতকে প্রাণ দিতে হয়েছে অকালে। পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে টেইলরিং কাজ করতেন তিনি।
এছাড়া অবরোধ চলাকালে ছাত্রলীগ ক্যাডারা সিরাজগঞ্জে এক জামায়াত কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এদিকে অবরোধ ভাঙতে রাস্তায় নামানো মিনিবাসের চাপায় এয়ারপোর্টের সামনে নিহত হয় এক যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৯টার দিকে ছাত্রলীগ অবরোধবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলটি পার্কের কাছে আসার পরই অবরোধের সমর্থনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের একটি মিছিলের মুখোমুখি হয়। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আইনজীবীদের মিছিলকে ধাওয়া করে ছাত্রলীগ ক্যাডররা। কয়েক আইনজীবীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে তারা। অনেকের পকেট থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিতেও দেখা যায়। ঠিক এ সময় হামলা থেকে বাঁচতে পার্শ্ববর্তী পদ্মা বিপণি বিতানের দোতলায় আশ্রয় নেয় পথচারী বিশ্বজিত দাস। কিন্তু ছাত্রলীগের হাত থেকে সে বাঁচতে পারেনি। বিরোধী দল সমর্থক মনে করে সেখানে গিয়ে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে মৃত ভেবে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এ সময় সে নিজেকে টেইলার এবং বিরোধী জোটের সমর্থক নয় বলে বার বার বলতে থাকলেও উন্মত্ত সন্ত্রাসীরা তাতে কর্ণপাত করেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগ ক্যাডার শাকিলের নেতৃত্বে তাকে কোপানো হয়। এরপর মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। বিশ্বজিতের ভাই জানান, শাখারি বাজারের টেইলারের দোকানে যাওয়ার জন্য গতকাল সকালে লক্ষ্মীবাজারের বাসা থেকে বের হন তিনি। কিন্তু তার আর দোকানে যাওয়া হয়নি।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আবু তানভীর সিদ্দিক বলেন, বিশ্বজিতকে গুরুতর অবস্থায় এক রিকশাচালক হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ১০ মিনিটের মাথায় মারা যান তিনি। নিহত ব্যক্তির বড় ভাই উত্তম কুমার দাস জানিয়েছেন, তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ভবেশ্বর। বাবার নাম অনন্ত চন্দ্র দাস। বিশ্বজিত দাস পুরান ঢাকার ৫৩ নম্বর ঋষিকেশ দাস লেনের বাসা থেকে সকালে শাঁখারীবাজারে তার টেইলারের দোকানে যাচ্ছিলেন। ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় ছাত্রদলের কর্মী মনে করে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে কুপিয়েছে। বিশ্বজিত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে তিনি দাবি করেন।
রিকশাচালক রিপন মিয়া জানান, সকাল ৯টার দিকে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা তাকে মাথায় ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এমনকি রড দিয়ে তাকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। বিশ্বজিতকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান রিপন মিয়া। ওই সময়ে বিশ্বজিত কথা বলে তার নাম বিশ্বজিত বলে রিকশাওয়ালাকে জানান। রিপন আরও জানায়, ডাক্তারদের অবহেলার কারণে আধাঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সকাল ১০টার দিকে মারা যান।
মিটফোর্ড হাসপাতালে মানষ ঘোষ বাবুরাম নামে এক ব্যবসায়ী জানান, শাঁখারীবাজারে দোকান ভাড়া নিয়েই ‘আমন্ত্রণ টেইলার্স’ নামের একটি দোকান চালাতেন বিশ্বজিত। বিশ্বজিত সকালে বাসা থেকে দোকানে যাচ্ছিল। পথে গণ্ডগোলের মধ্যে পড়ে। সে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিল বলে আমি শুনিনি।
লাশের সুরতহাল তৈরির সময় উপস্থিত থাকা সূত্রাপুর থানার এসআই জাহেদুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টার দিকে ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে এ ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা বিশ্বজিতের ডান হাতে ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। নিহতের লাশ সুরতহাল শেষে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্বজিতের মৃতদেহ দেখতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকাসহ সিনিয়র নেতারা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং লাশ সত্কার করার জন্য তার পরিবারের সদস্যকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিশ্বজিতের লাশ তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে নেয়া হয়েছে।

0 স্বপ্নের এশিয়া একাদশে বাংলাদেশের পাঁচ

স্বপ্নের এশিয়া একাদশে বাংলাদেশের পাঁচ

স্পোর্টস রিপোর্টার
এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশ হেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের অদম্য পারফরমেন্স মন কেড়ে নিয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর। তাদের চোখে ট্রফি জেতা পাকিস্তানিদের চেয়ে দুর্দান্ত লড়াই করে মাত্র ২ রানে হেরে যাওয়া বাংলাদেশীরাই বেশি মহিমান্বিত হয়ে ধরা দিয়েছেন। পুরো প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাদেরই এগিয়ে রেখেছে ‘ইয়াহু ক্রিকেট’।
পরশু রাতে স্বপ্নের এশিয়া একাদশ মনোনীত করেছে ইয়াহু। এই একাদশে বাংলাদেশ দল থেকে স্থান পেয়েছেন সর্বোচ্চ পাঁচ ক্রিকেটার : তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, আবদুর রাজ্জাক ও মাশরাফি বিন মর্তুজা।
আর কাপজয়ী পাকিস্তান দল থেকে ঠাঁই পেয়েছেন মাত্র তিনজন। ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়া শ্রীলঙ্কা দল থেকে স্বপ্নের একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন দুজন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে স্বপ্নের একাদশে জায়গা পেয়েছেন কেবল একজনই।
স্বপ্নের এশিয়া একাদশ : মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান), তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), বিরাট কোহলি (ভারত), কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), উপুল থারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা), নাসির হোসেন (বাংলাদেশ), উমর গুল (পাকিস্তান), আবদুর রাজ্জাক (বাংলাদেশ), সাঈদ আজমল (পাকিস্তান), মাশরাফি বিন মর্তুজা (বাংলাদেশ)।

0 ‘সেই দরবেশের বিচার করতে হবে’

‘সেই দরবেশের বিচার করতে হবে’


Mon, Mar 19th, 2012 7:48 pm BdST
 
ঢাকা, মার্চ ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পুঁজিবাজারে ৩৩ কোটি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অর্থ লুণ্ঠন হয়েছে দাবি করে তার বিচারে আইন প্রণয়নের জন্য সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এই নেতা সোমবার সংসদে বলেন, “গত বছর আমি এই সংসদে দাঁড়িয়ে এক দরবেশ ও তার মুরীদদের কথা বলেছিলাম। এবারের শেয়ার বাজারের অর্থ লুণ্ঠনের পর সেই দরবেশের কথা দেশের ছোট ছোট বাচ্চারাও জেনে গেছে।

“এই দরবেশের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাই সরকারকে বলব, এদের বিচার করতে রেক্টোসপেক্টিভ (ভূতপূর্ব) অ্যাফেক্ট (পুরনো ঘটনার বিচার পরে প্রণীত আইনে) দিয়ে সংসদে নতুন আইন প্রণয়ন করুন।’’

দীর্ঘদিন সংসদ বর্জন শেষে রোববার ফেরার পরদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে এই কথা বলেন আন্দালিব।

গত এক বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন চলছে। এতে কারসাজির অভিযোগ উঠলে তার অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটিও করে সরকার। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পোষাতে কয়েকটি পদক্ষেপও নিয়েছে সরকার।

তবে তারপরও পুঁজিবাজারে স্থিতি না ফেরার কথা তুলে ধরে বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, “পুঁজিবাজার সচল করতে প্রধানমন্ত্রীও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারপরও বাজারে ব্যাংকের মালিকরা অর্থ বিনিয়োগ করেননি। অথচ তারা ব্রোকারেজ হাউজে অর্থ বিনিয়োগ করেছে।”

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ লুট হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার কাছে তালিকা আছে, আটটি কোম্পানি ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ২৬টি কোম্পানি ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লুট করে করেছে।”

“অথচ আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, শেয়ার বাজার আমি বুঝি না। অর্থ তিনি লুণ্ঠনকারীদের ‘মাফিয়া’ বললেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। এটা দুঃখজনক,” বলেন আন্দালিব।

অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তাকে ইন্দিরা গান্ধী অ্যাওয়ার্ডের বদলে পুঁজিবাজার ধ্বংসের জন্য ‘ধ্বংসাত্মক অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া উচিৎ।”

পুঁজিবাজার দিয়ে শুরু করে সংবিধান সংশোধন, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ খাত, গণমাধ্যম নিয়ে সরকারের সমালোচনার পর অবশ্য সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জয়ের জন্য সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান।

বিদ্যৃুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে দাবি করে আন্দালিব বলেন, “সরকার তার পছন্দমত লোকজনকে দিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বসিয়েছে। ফার্নিচার, চানাচুর কোম্পনিকে দিয়ে এই খাতকে কুইক ধ্বংস করা হচ্ছে।

“সামিট পরিবার হচ্ছে সরকারের কাছে ফুটবলের ম্যারাডোনা এবং ওরিয়ন কোম্পানি হচ্ছে ফুটবলের মেসি। এই দুই পরিবারকে তারা (সরকার) ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের দায়িত্ব দিয়েছে।”

দেশের অর্থনীতির ‘বিপর্যয়ের’ নতুন ব্যাংক অনুমোদনের প্রক্রিয়ারও সমালোচনা করেন আন্দালিব। তিনি বলেন, “এত দিন জানতাম আওয়ামী লীগ গরিবের সরকার, এখন দেখছি তারা ব্যাংকের সরকার।”

টেলিযোগাযোগ খাতে অব্যবস্থাপনা চলছে দাবি করে তার জন্য বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনকে (বিটিআরসি) দায়ী করেন তিনি।

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এই নেতা। গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবশেষে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানার বিরোধের রায় দেশের পক্ষে আসায় সরকারের প্রশংসা করে আন্দালিক বলেন, “সমুদ্র বিজয়ের জন্য সরকার ও দেশবাসীকে আমি অভিনন্দন জানাই।”

0 ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী’


‘বিএনপি গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী’


ঢাকা, জানুয়ারি ২০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান চেষ্টার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলার পর এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধান বিরোধী দল বলেছে, তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে অন্য কোনো পথে ক্ষমতা হস্তান্তর সমর্থন করে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করে। অন্য কোনো পথে নয়। আমাদের সেনা বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমরা একটি সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী চাই।”

বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অভিযোগ এনেছেন- তা ‘অসত্য’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কিছু প্রবাসী বাংলাদেশির ইন্ধনে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন ধর্মান্ধ কর্মকর্তা স¤প্রতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করার প্রয়াস চালায়, যা সেনাবাহিনীর ঐকান্তিক চেষ্টায় প্রতিহত করা হয়েছে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগ এনে বলেন, “তারা আন্দোলনের নামে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে সরকারকে হুমকি দিচ্ছে।”

পল্টন বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর শুক্রবার সকালে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

সেনা সদরের বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া চাইলে তিনি বলেন, “বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিশ্বাস করে বলেই আমরা স্বৈরাচার, এক নায়কতন্ত্র ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলি, কাজ করি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হন্তান্তর হবে- এটাই আমরা চাই।’’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, “সব সময় তিনি অসত্য কথা বলেন। সরকার প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা এ রকম বক্তব্যের নিন্দা জানাই।”

‘বর্তমান সরকারের সময়ে সেনা সদস্যদের গুম করা হচ্ছে’- গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে সেনা সদরের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলও মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও প্রচারমূলক সংবাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিযোগ করে, যা সেনাবাহিনী তথা সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত উস্কানিমূলক বিতর্কের সৃষ্টি করে।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, “এ রকম বক্তব্য অনভিপ্রেত। যিনি তিন তিন বার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, বিরোধী দলীয় নেতা আছেন, দেশের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে তিনি এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কাজ করেছেন, তার সম্পর্কে এ রকম বক্তব্য জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।”

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে এ রকম আরও কয়েকটি বোমা হামলা হয়েছে। এর কোনোটিরই তদন্ত করেনি তৎকালীন সরকার। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া দরকার।”

এর আগে তিনি বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত স্মৃতি ফলকে ফুল দিয়ে পল্টন বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্র্রদ্ধা জানান।

সিপিবি সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, দলের পলিট ব্যুরোর সদস্য হায়দার আকবর খান রনো এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র লীগ, যুব ইউনিয়ন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, বস্তিবাসী ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠন সকালে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে পল্টন বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। 

0 সৌদি থেকে বাংলাদেশীদের ফেরত না পাঠানোর আহবান খালেদার



ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি : সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশীদের ফেরত না পাঠিয়ে নতুনভাবে আরো কর্মী নেয়ার আহবান করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।  

মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন নাসের আল বুশাইরি সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলে তিনি এ আহবান জানান।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খালেদা জিয়া সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সেদেশে ১৮ বছরের অধিক সময় অবস্থানকারী বাংলাদেশী শ্রমিকদের যেন দেশে ফেরত না পাঠানো হয়।”

আবদুল্লাহ বুশাইরি খালেদা জিয়াকে নিশ্চিত করেন ১৮ বছরের অধীক সময় সৌদিতে অবস্থান করা শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয়। বরং যারা ১৮ বছর বয়সী বাংলাদেশী সৌদি আরবে অবস্থান করছে তারা ছাত্র হিসেবে না থেকে যেন কর্মী হিসেবে সেখানে অবস্থান করে। নতুন এ আইন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ বছরের মহিলাদের পিতার অধীনে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।   

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী রাতে বৈঠক শেষে বার্তা২৪ ডটনেটকে একথা জানান।

শমসের মবিন আরো বলেন, বুধবার সৌদি রাষ্ট্রদূত তার দেশে যাবেন। এর আগে তিনি বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষত করতে আসেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়াকে ওমরা পালন অথবা যে কোনো সময় সফর করার আমন্ত্রণ জানান।
 
মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় গুলশান কার্যালয়ে আসেন আবদুল্লাহ বুশাইরি। তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে তার উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও এনামুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
 

BANGLADESHI UPDATE NEWS Copyright © 2011 - |- Template created by O Pregador - |- Powered by Blogger Templates